No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    মেয়ের জন্মদিনে বর্ধমানে ১২৫০টি চারাগাছ বিলি করলেন প্রবাসী দম্পতি

    মেয়ের জন্মদিনে বর্ধমানে ১২৫০টি চারাগাছ বিলি করলেন প্রবাসী দম্পতি

    Story image

    দেশজুড়ে জলের সংকট। গাছের সংকট। আমাদের বেঁচে থাকার জন্য জল আর গাছ কীভাবে সংরক্ষণ করা যায়, তা ভাবা উচিত। প্রচুর গাছ লাগানো আর স্বল্প জল ব্যবহার করার জন্য জনমানসের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে বোধ। রাজ্য তথা দেশের কথা ভেবে এগিয়েও আসছেন প্রচুর মানুষ। তেমনই একটি বিরল ঘটনা ঘটল গত ২১ জুলাই, রোববার, পূর্ব বর্ধমানে। কর্মসূত্রে আমেরিকায় থাকেন বাঙালি দম্পতি মানালি দিক্‌পতি এবং বিষ্ণুজ্যোতি পাল। তাঁদের কন্যা মুগ্ধা পালের চতুর্থ জন্মদিন উপলক্ষে বর্ধমানের দ্য কুইন বিয়েবাড়িতে বিনাপয়সায় বিলি করা হল প্রায় ১২৫০টি গাছ। বর্ধমান তাঁদেরই পুরোনো শহর। প্রথমে ৬৬৭টি এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার মিলিয়ে ৫৮০টি গাছ বিলি করা হয়েছে। ভিড় করেছিলেন প্রচুর সাধারণ মানুষ। তাদের প্রত্যেকের মধ্যে থেকেই শোনা গিয়েছে এই চারাগাছ বাড়িতে লাগাবেন। যত্ন করবেন। বাড়ির কচিকাঁচাদেরও গাছ লাগানোর বিষয়ে উৎসাহিত করবেন। দম্পতির এই উদ্যোগে সাড়া দিয়েছিল বিভিন্ন স্কুল-প্রতিষ্ঠান। মেমারি রুরাল হাসপাতাল, বর্ধমান ডেন্টাল কলেজ, বর্ধমান ফুডিজ ক্লাব, চিরন্তনী (বর্ধমান পৌর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তনী বিভাগ), ছোট্‌বেলুন ইছারাম বাটি অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুরাতিপুর অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়, খেজুরতলা যুবগোষ্ঠী, বাবলা জুনিয়র হাইস্কুল, রামচন্দ্রপুর অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়, গদাধরপুর হাইস্কুল, ডক্টর শীতলপ্রসাদ ঘোষ আদর্শ শিক্ষালয়, বিশ্বজিৎ ফাউন্ডেশন ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে গাছগুলি।

    চেনা শহর-মফস্‌সল-গ্রাম সব একটু একটু করে পাল্টে যাচ্ছে। পাল্টে যাচ্ছে মানুষ-পরিবার-বিচ্ছেদের সমীকরণ। মানসিকতাও বদলাচ্ছে ক্রমশ। পরিস্থিতি বদলালেও কিছু মানুষ তাঁদের যাপনে খুঁজে নিতে চান নতুন কিছু। এই একঘেয়ে জীবন থেকে মুক্তির উপায়। চেনা ছক থেকে সম্পূর্ণ বাইরে আসার চেষ্টা। তার মধ্যে থেকেই নিজেদের মতো করে মানুষদের জন্য কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন অনেকে। নিজেদের অবাধ স্বাধীনতা আর সুন্দর পৃথিবী গড়ার ইচ্ছে থাকলে সম্ভব হয়ে ওঠে অনেককিছুই। মেয়ের জন্মদিন, বাড়িতে প্রচুর লোকজন আসবেন হয়তো, অনেক গল্প-গাছা হবে, উপহারে উপচে পড়বে জন্মদিনের কেক। হয়তো এসবের চেয়ে অনেক বড়ো বাইরের সমাজটা। যেখানে আমার বাস, আমাদের বাস। মানালি আর বিষ্ণুজ্যোতি এই চেনা ছক থেকে বেরিয়ে নতুন করে ভাবতে পেরেছেন।

    মৌসুমি ভৌমিক তাঁর গানে বলছেন, “কেন শুধু ছুটে ছুটে চলা একে একে কথা বলা/ নিজের জন্য বাঁচা নিজেকে নিয়ে।/ যদি ভালোবাসা নাই থাকে শুধু একা একা লাগে/ কোথায় শান্তি পাব কোথায় গিয়ে?/ বলো কোথায় গিয়ে?” সবুজ ভালোবাসায় মুড়ে দিতে চাইছেন বৃহত্তর সমাজ। যেখানে রোজকার হেডলাইন এখানে গাছ কাটা হয়েছে, ওখানে গাছ কাটা হয়েছে- সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এই উদ্যোগ তো একটুকরো প্রতিবাদও। এই শিক্ষা সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে যাওয়া উচিত। এই উদ্যোগের পাশে দাঁড়ানো উচিত। সেদিন উদ্যোক্তাদের স্লোগান ছিল, “গাছেদের ভালোবাসুন - গাছ লাগান - গাছ উপহার দিন - গড়ে তুলুন সবুজ পৃথিবী”। আম, জাম, কাঁঠাল, বেলি, শাল, সেগুন, মেহগনি, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া প্রভৃতি গাছ দেওয়া হয়েছে। যা আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় উপকারেও লাগবে।

    সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এমন হয়তো অনেকেই আছেন। নিজেদের উদ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন যাঁরা, তাঁদের হয়ে কথা বলার লোক চিরকালই কম। সমাজের মূল স্রোতের বাইরে বেরিয়ে কীভাবে মানুষের মুখে হাসি ফোটানো যায়, কীভাবে প্রকৃতি নিয়ে ভাবা যায়, তার একটা অন্যরকম সংজ্ঞা দিতে চাইলেন এই গাছেদের মানুষ।

    ছবি ও তথ্যঋণ- লিওনিড দত্ত

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @