রং-তুলির মাধ্যমে করোনা সচেতনতার প্রচার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সায়ন্তিকার

কানে শুনতে সমস্যা সায়ন্তিকার। ফলে কথাও সেভাবে বলতে পারে না। এককথায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন। কিন্তু কথা বলতে না পারা কিংবা কানে শুনতে না পারার সমস্যা থাকলেও রংতুলিতেই মনের ভাষা প্রকাশ করেন শিলিগুড়ি রবীন্দ্রনগরের সায়ন্তিকা ভট্টাচার্য। এই করোনা দুর্যোগের সময় লকডাউন চলতে থাকায় ঘরে বসেই রংতুলির সাহায্যে করোনা সচেতনতার ছবি এঁকে মানুষকে সচেতন করছেন এই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যুবতী।
ছাব্বিশ বছরের যুবতী সায়ন্তিকা ছোটো থেকেই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন। ছোটোবেলায় ওর খুব জ্বর হয়েছিল। তারপর থেকে শুরু হয় কানে না শোনার সমস্যা। আর কানে না শোনার সেই সমস্যা এসে পড়ে কথা বলাতেও। অস্পষ্ট হয়ে যায় কথা। ওর বাবা স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য এবং মা সোমা ভট্টাচার্য সায়ন্তিকাকে চিকিৎসার জন্য অনেক স্থানেই নিয়ে যান। কিন্তু ফল হয়নি। শেষে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হিসাবেই ডাক্তারের শংসাপত্র আসে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলেও হেরে যেতে নারাজ সায়ন্তিকা। দুই বছর বয়স থেকে হাতে রং তুলি নিয়ে তাঁর মনের ভাব প্রকাশের যুদ্ধ শুরু হয়। আজও তা চলছে। কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে গোটা রাজ্যের বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের অঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হলে সেখানে ছবি এঁকে প্রথম স্থান অধিকার করেন সায়ন্তিকা। এর বাইরে সাধারণদের সঙ্গেও বহু অঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বহু পুরস্কার ছিনিয়ে এনেছেন।
দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করে থ্রিডি অ্যানিমেশনের ওপর তাঁর বিশেষ ডিপ্লোমা কোর্স রয়েছে। বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। ওর মা সোমা ভট্টাচার্য বলেন, ওকে মূল স্রোতে ফিরিয়ে দিতে তাঁরা বিভিন্নরকম হাতের কাজ ওকে শিখিয়েছেন। সাধারণদের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিভা মেলে ধরছে। ওর বিউটিশিয়ান কোর্সও করা রয়েছে। মিস শিলিগুড়ি সৌন্দর্য্য প্রতিযোগিতাতেও তাঁর কপালে পুরস্কারের মুকুট রয়েছে।
এখন করোনার জেরে লকডাউন চলতে থাকায় ঘরবন্দি হয়ে আছেন সায়ন্তিকা। বাড়িতে থেকেই করোনা সচেতনতার বিভিন্ন ছবি আঁকছেন। কীভাবে হাত ধুতে হবে, কীভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, বারবার হাত ধোয়ার পর জলের অপচয় ঠেকাতে ট্যাপকলের মুখ বন্ধ রাখা প্রভৃতি সায়ন্তিকার হাতের যাদুতে ফুটে উঠছে। ভারতের মানচিত্রের ছবি এঁকে লকডাউনের ছবিও ফুটিয়ে তুলেছেন সায়ন্তিকা। ছবি এঁকেই সকলকে করোনা সতর্কতার অঙ্গ হিসাবে লকডাউন মেনে চলার আবেদন করছেন তিনি। কাজের মাধ্যমেই সায়ন্তিকা বুঝিয়ে দিচ্ছেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলেও তাঁকে অবজ্ঞা করার কিছু নেই।
ছবি— প্রতিবেদক