No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    নাগরিক ক্লান্তি মুছে চলে গেলেন দিব্যেন্দু পালিত 

    নাগরিক ক্লান্তি মুছে চলে গেলেন দিব্যেন্দু পালিত 

    Story image

    এবারের শীত বড়োই নিষ্ঠুর। ডিসেম্বরের শেষ থেকে একের পর এক নক্ষত্র বিলীন হয়ে গেলেন সুদূর কোন মহাজাগতিক শূন্যতায়। নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, মৃণাল সেন, তারপর একই দিনে পিনাকী ঠাকুর আর দিব্যেন্দু পালিত। বেশ কিছু দিন ধরেই দিব্যেন্দু পালিত বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। কষ্ট পাচ্ছিলেন উচ্চ রক্তচাপ ও টাইপ টু ডায়বেটিসে। বুধবার যাদবপুরের কে পি সি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। পরের দিন বৃহস্পতিবারই তাঁর জীবনাবসান ঘটে। হাসপাতালের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ফলে প্রয়াত হয়েছেন এই বর্ষীয়ান সাহিত্যিক। বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।

    বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম মুখ দিব্যেন্দু পালিতের জন্ম হয়েছিল ১৯৩৯ সালের ৫ মার্চ ভাগলপুরে। তিনি যখন খুব ছোটো, তখনই ১৯৫৮ সালে মারা গিয়েছিলেন তাঁর বাবা বগলাচরণ পালিত। ফলে খুব অল্প বয়স থেকে তাঁকে সংসারের দায়িত্ব নিতে হয়। লেখাপড়া, স্কুল-কলেজের জীবন তাঁর ভাগলপুরেই কেটেছে, প্রথম লেখালিখিও শুরু হয়েছিল সেখানেই। প্রথম যখন তাঁর গল্প ‘ছন্দপতন’ প্রকাশিত হল, সেই সময়ে তাঁর বয়স ছিল মাত্র ষোলো। ১৯৫৫ সালে গল্পটি বেরিয়েছিল ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’র রবিবাসরীয়তে। ‘নিয়ম’ প্রকাশিত হয় পরের বছর সাপ্তাহিক ‘দেশ’ পত্রিকায়। স্নাতকের পাঠ সম্পূর্ণ করার পর তাঁকে কলকাতায় এসে ভয়ংকর সংগ্রামের মুখোমুখি হতে হয়। তা সত্ত্বেও লেখালিখি ছাড়েননি কোনো অবস্থাতেই। এরই মধ্যে ১৯৫৯ সালে বইয়ের আকারে প্রকাশিত হয়েছে প্রথম উপন্যাস ‘সিন্ধু বারোয়াঁ’। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ভর্তি হন তুলনামূলক সাহিত্যের স্নাতকোত্তর ক্লাসে। শিক্ষক হিসেবে তখন পেয়েছিলেন বুদ্ধদেব বসুকে। ‘কবিতা’ পত্রিকাতেও তিনি কবিতা লিখতেন। ১৯৬১তে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। সেই বছরই যোগ দেন ইংরেজি দৈনিক হিন্দুস্থান স্ট্যান্ডার্ডের সাব-এডিটার পদে। তারপর কিছুদিন বিজ্ঞাপনের কাজ করার পর ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’-র সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ শুরু করেন। সেখানেই ছিলেন অনেক দিন।

    পঞ্চাশের দশকে বাংলা কথাসাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠেছিলেন দিব্যেন্দু পালিত। উপন্যাস, ছোটোগল্পের পাশাপাশি কবিতা এবং প্রবন্ধেও ছিলেন যথেষ্ট অনবদ্য। শহুরে জীবনের অনিশ্চয়তা, হতাশা আর জটিলতার আখ্যান তাঁর লেখায় বার বার উঠে এসেছে। ‘সন্ধিক্ষণ’, ‘সম্পর্ক’, ‘অনুভব’, ‘আমরা’, ‘সহযোদ্ধা’, ‘ঢেউ’, ‘সোনালী জীবন’, ‘ঘরবাড়ি’-র মতো উপন্যাস, ‘ব্রাজিল’, ‘জাতীয় পতাকা’, ‘হিন্দু’, ‘ত্রাতা’, ‘গাভাসকার’, ‘একটি মন্দিরের জন্ম ও মৃত্য’-র মতো নানা স্বাদের ছোটোগল্প পাঠকদের মুগ্ধ করেছে বারবার। ১৯৮৪ সালে ‘সহযোদ্ধা’-র জন্য পেয়েছিলেন আনন্দ পুরস্কার। তারপর ‘ঢেউ’-এর জন্য ১৯৯০ সালে বঙ্কিম পুরস্কার, ‘অনুভব’-এর জন্য ১৯৯৮ সালে সাহিত্য আকাডেমি পুরস্কার সহ বিভিন্ন সম্মাননা ও পুরস্কার লাভ করেছেন তিনি। একাধিক ভাষায় অনূদিত হয়েছে তাঁর লেখা। তাঁর কাহিনি নিয়ে সিনেমা তৈরি করেছেন তপন সিংহ, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, রাজা দাশগুপ্ত, শ্যামানন্দ জালানের মতো পরিচালকেরা। জীবনকে খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারতেন দিব্যেন্দু পালিত। প্রগাঢ় অনুভূতির সঙ্গে আশ্চর্য পরিমিতিবোধ একাত্ম হয়ে গিয়েছিল তাঁর সৃজনে।

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @