রাজাদের শহর কোচবিহার

ইতিহাস যাঁরা ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য আদর্শ ডেস্টিনেশন কোচবিচার। জমকালো রাজবাড়ি, রাজা-রানির রোমাঞ্চকর কাহিনি, অতীতের নস্টালজিয়া – সব পাবেন। ফেলা আসা যুগের স্মৃতি আজও বেঁচে রয়েছে স্থাপত্য এবং সংস্কৃতির মধ্যে। হিমালয়ের পাদদেশে ছবির মতো সুন্দর এই শহর পেয়েছে হেরিটেজ সিটির তকমা।
ফাঁসির ঘাট
শিলিগুড়ি থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দূরে উত্তরবঙ্গের একমাত্র সম্পূর্ণ পরিকল্পিত শহর কোচবিহার। গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনও বটে। শহরের নামটি এসেছে ‘কোচ’ রাজবংশের থেকে। পূর্ব ভারতের বিশাল অংশে তাঁরা শাসন করেছেন মোটামুটি চারশো বছর ধরে। এই শহর ছিল কোচ রাজাদের ক্ষমতার কেন্দ্র।
শহরের মূল আকর্ষণ রাজবাড়ি। কত গল্পকথা ছড়িয়ে আছে তাকে নিয়ে। মনে করা হয়, ১৮৮৭ সালে কোচ মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণ এটি নির্মাণ করান। ধ্রুপদী ইতালীয় রেনেসাঁস রীতির জমকালো প্রয়োগ। চারদিকে মনোরম বাগান ঘিরে আছে। প্রাসাদের ভিতরে শোভা পাচ্ছে অমূল্য সব ঐতিহাসিক সামগ্রী।
সাগরদিঘি
কোচবিহারের আরেকটি জনপ্রিয় আকর্ষণ সাগরদিঘি। শহরের বুকে এক বিশাল কৃত্রিম জলাশয়। খনন করিয়েছিলেন মহারাজা হিতেন্দ্র নারায়ণ। বিকেলবেলা কাটিয়ে আসতে পারেন নিজের মতো করে। মায়াবী প্রকৃতি অন্য জগতে আপনাকে নিয়ে যাবে। সারা বছর ধরে এখানে পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনা। চারদিকে একের পর এক চোখ ধাঁধানো সরকারি প্রশাসনিক ভবন। আর রয়েছে সুস্বাদু খাবারের প্রচুর দোকান। রাত কাটানোর জন্য আশেপাশে পেয়ে যাবেন বেশ কিছু হোটেল।
মদনমোহন মন্দির
শহর জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বহু প্রাচীন মন্দির। হাজার হাজার ভক্তের জমায়েত হয়। মদনমোহন মন্দিরে যান সবচেয়ে বেশি লোক। কোচবিহারের ঠিক হৃৎপিণ্ডে তার অবস্থান। ১৮৯০ সালে স্থাপন করেছিলেন মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণ। আজও উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র। প্রতি বছর নভেম্বর/ডিসেম্বর নাগাদ মন্দিরে আয়োজিত হয় বিখ্যাত রাস উৎসব।
আরও পড়ুন: জলপাইগুড়ির রূপকথা গ্রাম ভুটানঘাট
এছাড়া যেতে পারেন সিদ্ধনাথ শিবমন্দিরে। শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে এটি গড়ে উঠেছিল ১৮০০ থেকে ১৮৪৪ সালের মধ্যে। দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন। ৫ ফুট উঁচু শিবলিঙ্গ ছাড়াও মুগ্ধ করবে মন্দিরের শিখর, স্তম্ভ এবং গম্বুজ।
রেল সংগ্রহশালা
সংস্কৃতির দিক থেকেও শহরটি বেশ সমৃদ্ধ। পাল-সেন যুগ (১১-১২ শতক) থেকে ইতিহাসে কোচবিহারকে খুঁজে পাওয়া যায়। পূর্ব এবং পশ্চিম বাংলার সংস্কৃতি এখানে মিশেছে। মোহময় প্রকৃতি, প্রাচীন ইতিহাস এবং নিরিবিলি ছুটি কাটানোর পরিবেশ – সবই পাবেন। উইকএন্ডে বন্ধু অথবা পরিবার নিয়ে ঘুরে আসুন। সারা বছরই মনোরম আবহাওয়া কোচবিহারে। প্রত্যেক ঋতুতে কোনো না কোনো উৎসব লেগেই থাকে। বর্ষাকালে রথযাত্রা, শীতকালে হুজুর সাহেবের মেলা। তবে শীতের রাস উৎসব সবচেয়ে বিখ্যাত।
বিস্তারিত তথ্য জানতে যোগাযোগ করুন –
West Bengal Tourism Development Corporation Ltd.
Udayachal Tourist Lodge
DG Block (1st floor), Sec II, Salt Lake, Kolkata - 700091
Phone: 033 2358 5189
Email: visitwestbengal@yahoo.co.in, mdwbtdc@gmail.com, dgmrwbtdc@gmail.com
Website: https://www.wbtdcl.com/