No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    ‘সিধু জ্যাঠা’র সংগ্রহে ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’র দাবা

    ‘সিধু জ্যাঠা’র সংগ্রহে ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’র দাবা

    Story image

    মুন্সি প্রেমচন্দ্রের লেখা গল্প ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’। ষাটের দশকের শুরুতে সত্যজিৎ রায় ঠিক করলেন, একটা সিনেমা বানাবেন সেই গল্প নিয়ে। কিন্তু ওই ধরনের পিরিয়ড ড্রামা তৈরি করা তো চাট্টিখানি কথা নয়। তার জন্য লাগবে নিঁখুত প্রপস। আর দরকার জম্পেস হিন্দি আর উর্দুতে একটা ভালো চিত্রনাট্য। তার ওপর সত্যজিৎ ভীষণ পারফেকশনিস্ট। মহাবিদ্রোহের সময়কে ফোটানোর মতো ঠিকঠাক জিনিসপত্র খুঁজতে গিয়ে থই পাচ্ছেন না শিল্প নির্দেশক বংশী চন্দ্রগুপ্ত।

     

    অগত্যা সত্যজিৎ তাঁর অনেকদিনের বন্ধু নিমর্লচন্দ্র কুমারের কাছে গেলেন। খুলে বললেন তাঁর সমস্যা। নিজের সংগ্রহ থেকে তখন নির্মলচন্দ্র বের করে দিলেন উনিশ শতকের রুপোর পানদানি, পিকদানি, সাজি, কাচের গড়গড়া, দাবার বোর্ড। এমনকি নবাব ওয়াজেদ আলি শাহের ব্যবহৃত কোরান, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্ল্যান আঁকা ম্যাপও তিনি সত্যজিতের হাতে তুলে দিলেন। চিত্রনাট্যের জন্য কথা বলিয়ে দিলেন শামা জাইদির সঙ্গে। এই শামা জাইদির সাহায্যেই লন্ডন থেকে আনালেন ১৮৫৭-র ‘মিউটিনি’র ওপর একটি ম্যানুস্ক্রিপ্ট। 

    যখন ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’ মুক্তি পেল, তার ঠিক আগেই মারা গেছিলেন নির্মলচন্দ্র কুমার। তাই ছবিটি দেখার সৌভাগ্য আর ঘটে তাঁর। ভারতের প্রথম অ্যান্টিকুইরিয়ান ছিলেন তিনি। ফেলুদার গল্পে সিধু জ্যাঠার চরিত্রটি সত্যজিৎ তৈরি করেছিলেন নির্মলকুমারের আদলেই। মাত্র ৬০ বছর বয়সে হৃদরোগে নির্মলচন্দ্রের অকালমৃত্যু হলে তাঁর ঐতিহাসিক সংগ্রহকে চোখের সামনে নষ্ট হতে দিতে চাননি ছেলে অলোক কুমার। বাবার তিল তিল করে জমানো কয়েক লক্ষ বই নিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেন তিনি। বাবা মারা গেলে জানতে পারেন, চার ভাইবোনের মধ্যে ছোটোভাইকে উইল করে সব কিছু দিয়ে গেছেন নির্মলচন্দ্র। তারপর থেকে বাবার অমূল্য সংগ্রহগুলো যত্ন করে আগলে রেখেছেন অলোক কুমার।

    তিরিশ বছর বয়স থেকেই নির্মলচন্দ্রকে পেয়ে বসেছিল দুষ্প্রাপ্য বই সংগ্রহের নেশা। ১৯৪৫ সালে ইয়াকুব নামের এক বই বিক্রেতার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। তাঁর সংগ্রহের বই পড়ে সেগুলোকে ‘ক্লাসিফাই’ করে দিতেন নির্মলচন্দ্র। ইয়াকুবের উৎসাহে সেই বছরই নিজের বাড়িতে নির্মলচন্দ্র শুরু করেন নিজের বইয়ের দোকান। নাম দেন ‘কুমার’। দুর্লভ সব বই আর নথি সেখানে স্থান পেত। নিজের সংগ্রহশালা তৈরি করতে ঘুরে বেড়িয়েছেন দুনিয়ার নানা প্রান্তে। ওই সব বইয়ের খোঁজে তখনকার অনেক খ্যাতনামা মানুষ হানা দিয়েছিলেন মধ্য কলকাতার তালতলায়। নির্মলচন্দ্রের বাড়িতে। সাকিন ৭৯/২৩ লোয়ার সার্কুলার রোড। রাতের পর রাত আড্ডা মেরেছেন সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, নির্মলেন্দু চৌধুরী, বসন্ত চৌধুরীর মতো লোকেরা। এখন সেই ঠিকানার বদল ঘটেছে। নির্মলচন্দ্রের ছেলে অলোক কুমার এখন থাকেন লেক গার্ডেন্সে। সেখানেই পরম মমতায় রাখা আছে ভারতের প্রথম অ্যান্টিকুইরিয়ানের দুর্লভ সব সংগ্রহ।  

    ছবি সৌজন্যে অলোক কুমার 

    Tags:

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @