চোরবাগানের পুজো এবার বেহালা, সল্টলেক, শোভাবাজারেও! টিজারের রহস্য ফাঁস

একুশের দুর্গাপুজোয় নজর কাড়ছে উত্তর কলকাতার সিমলা অঞ্চলের বিখ্যাত ক্লাব চোরবাগান। তাদের টিজারে দেখা গেছে চোরবাগান নাকি এবার বেহালা থেকে সল্টলেক, শোভাবাজার থেকে ঢাকুরিয়া – উত্তর থেকে দক্ষিণ সব এলাকাই নাকি কবজা করেছে। কিন্তু এই চমৎকার টিজারের পিছনে রয়েছে মানবিক একটি গল্প।
করোনা পরিস্থিতিতে আর্থিক অনটনে ভুগতে থাকা ১০টি ক্লাবের প্রতিমা তৈরির দায়িত্ব নিয়েছে চোরবাগান সর্বজনীন। বলা হয়েছিল, বায়না ও প্রতিমা গড়ার জন্য নামমাত্র ১০১ টাকা করে নেওয়া হয় সেই ক্লাবগুলির থেকে। লটারির মাধ্যমে বেছে নেওয়া হয় ক্লাবগুলিকে। লটারিতে তোলা হয় ১৩টি পুজোক্লাবকে। তার মধ্যে ভাগ্যবান দশটি ক্লাব হল – ফ্রেন্ডস অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন, সারথী, বেলেঘাটা নবালয় সংঘ ক্লাব, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র ক্লাব, মধ্য কলকাতা বিশ্বকল্যাণ সর্বজনীন, মা আগমনি সংঘ, আদি কাম্বুলিটোলা ও শ্যামবাজার স্ট্রিট সর্বজনীন দুর্গোৎসব, ভবানীপুর কিশোর সংঘ, দুর্গাপুজা বিএল ব্লক কমিটি, বেলেঘাটা সরকার বাজার বিবেকানন্দ সংঘ।
আকর্ষণীয় খবর হল, চোরবাগান পুজো প্রাঙ্গনেই তৈরি হচ্ছে সেই ১০টি প্রতিমা। যার তত্ত্বাবধানে রয়েছেন শিল্পী বিমল সামন্ত। শুধুমাত্র দশটি ক্লাবই নয়, কলকাতার যৌনপল্লী এলাকার দুর্বারের পুজো আয়োজনের দায়িত্বও নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে চোরবাগান। এছাড়াও মেদিনীপুরের ক্লাব ভীমেশ্বরী যুব ছাত্র সংঘ, ২৮ নং পল্লী মহিলাবৃন্দকে প্রতিমা তৈরি করে দিচ্ছে তারা। আর লটারিতে অংশ নেওয়া বাকি তিন ক্লাব? না, তাদেরও খালি হাতে ফিরতে হয়নি। পানশিলা সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি, তালবাগান আদিবাসীবৃন্দ, ২১ নং কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ১০ হাজার ১ টাকার চেক। এইভাবে বিভিন্ন পুজোয় নিঃশব্দে পৌঁছে গিয়েছে চোরবাগান। তুলে ধরেছে নিজেদের মানবিক রূপ।
চোরবাগানের পক্ষ থেকে একুশের পুজোকে বলা হচ্ছে, “নিরাপদ ভরসা ও বিশ্বাসের আঙ্গিনার ছত্রছায়া।” এবছর সেখানকার ভাবনা, পরিকল্পনা ও নির্মাণে রয়েছেন বিমল সামন্ত। প্রতিমা গড়ছেন নবকুমার পাল। আলোকসজ্জায় প্রেমেন্দু বিকাশ চাকী। আবহে অভিরূপ।