চণ্ডী লাহিড়ীর কাজগুলি বাংলার সংস্কৃতিতে কালজয়ী

‘খ্যাপা খুঁজে খুঁজে ফেরে পরশপাথর’ এই পঙক্তির ব্যবহার এবং সচিত্রকরণ বিশ্বভারতীর চোখরাঙানি উপেক্ষা করেছিল। তখনও কিন্তু তাদের কবল থেকে ‘কপিরাইট’ নামক চোখরাঙানি মকুব হয়নি। এম পি জুয়েলার্স-এর বিজ্ঞাপনের প্রসঙ্গে উল্লেখ করলাম এ-কথা। সহজপাঠের লেখা যেমন নন্দবাবুর হাতযশে সহজবোধ্য হয়ে গিয়েছিল তেমনই রত্নব্যবসার জন্য তৈরি এই বিজ্ঞাপন বহু হীরকদ্যুতিকেও ম্লান করে দিয়েছে।
বাংলায় ‘কালজয়ী’ বলে একটা শব্দ আছে। এই তকমা পেতে গেলে বহু জন্মের সুকৃতি লাগে। চণ্ডীবাবুর কাজগুলি বাংলার সংস্কৃতিতে কালজয়ী – এ-কথা অস্বীকার করার জো নেই। পপুলার আর্ট নিয়ে তাবড় শিল্পবিদরা অসংখ্য শব্দ, তথ্য এবং তত্ত্ব ব্যবহার করেছেন এযাবৎকাল। তবে এই পপুলার বা জনমনোগ্রাহী শিল্পের অভিধানে বাংলার চণ্ডী লাহিড়ী এক উত্তীর্ণ নাম।
রত্নব্যবসা থেকে ভাড়াটে উচ্ছেদ, ভোট প্রচার থেকে সিনেমা প্রচার – জনরুচির এই সুবিশাল গণ্ডিতে মিতব্যয়ী কয়েকটি কালো রেখা সম্বল করে যে কালোত্তীর্ণ থাকা যায়, চণ্ডীবাবুর কাজ তার মোক্ষম উদাহরণ।
সাহিত্যের ইতিহাসে রম্যরচনা পড়ানো হলেও এদেশে শিল্পকলা বিদ্যালয়ে আলাদা করে কার্টুন পড়ানো হয় না। যদিও নন্দনতত্ত্বের ক্লাসে হাস্যরসের উপর রচনা লেখানো হয়, তবুও। বৈমাত্রেয় হয়ে থাকার অবশ্য কিছু সুবিধা আছে, তার কাছাকাছি আসতে গেলে নিছকই ভালোবাসার সাঁকো পেরোতে হয়। তাই আর্ট কলেজ ফেরত যারা কার্টুন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তাঁরা ভালোবাসারই শুধু দ্বারস্থ হয়ে আছেন। আর অনেকের মাঝে সেই ভালোবাসারই একটি নাম চণ্ডী লাহিড়ী। যাঁকে দেখে শেখা যায়। যাঁর তীর্যক মন্তব্য সমাজ ইতিহাসের পেজ মার্ক হয়ে থাকে।
আরও পড়ুন
শিবরাম চক্রবর্তী-র সাক্ষাৎকার
যে লোকটি আজীবন হাসতে শিখিয়ে গেলেন, তাঁর জন্য শোকপ্রকাশ করা চলে না। যে লোকটি আজীবন ভিন্ন প্রেক্ষিতে দেখতে শিখিয়ে গেলেন তাঁর দিকে বাঁকা চোখে তাকানো যায় না। যে লোকটি নুড়িপাথর খোঁজার ছলে পরশপাথরের খোঁজ দিয়ে গেলেন তাঁকে আর যাই হোক খ্যাপা বলা যায় না।
ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, অন্তত পিস্তলের সামনে তাঁকে হাতজোড় করার অক্ষমতা দেওয়ার জন্য।