মহানগরে প্রথম সাঁওতলি বিভাগ শুরু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে

ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তপশিলের অন্তর্গত ২২টি ভাষার মধ্যে একটি সাঁওতালি। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় গবেষণা প্রবেশিকা পরীক্ষা নেট-এ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এই ভাষা। পশ্চিমবঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে সাঁওতালি ভাষাতেও প্রশ্নপত্র হয়। কলেজ শিক্ষক নিয়োগের সেট পরীক্ষায় অলচিকিতে প্রশ্ন করা হয়েছে। গত বছর কলেজ সার্ভিস কমিশন কলেজ স্তরে ৬ জনকে সাঁওতালি পড়ানোর জন্য নিয়োগ করে। আমাদের রাজ্যে সাঁওতালি নিয়ে উচ্চশিক্ষা প্রথম শুরু হয়েছে বিদ্যাসাগর, বর্ধমান এবং সিধো কানহো বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বভারতীতেও সাঁওতালি পড়ার ব্যবস্থা আছে। যদিও এমন সুযোগ কলকাতায় ছিল না এতদিন। এবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সেই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল। চালু করল পৃথক সাঁওতালি বিভাগ।
অস্ট্রো-এশীয় পরিবারের ভাষা সাঁওতালির ইতিহাস আমাদের দেশে খুব প্রাচীন। তবে উনিশ শতক পর্যন্ত এই ভাষার কোনো লিখিত রূপ ছিল না। মুখে মুখেই ব্যবহৃত হত। খ্রিস্টান মিশনারিরা প্রথম রোমান হরফে সাঁওতালি ভাষা লিপিবদ্ধ করেন। ব্রিটিশ আমলে শুরু হয় সাঁওতালি ভাষায় ব্যাকরণ ও অন্যান্য বইয়ের প্রকাশ। ময়ূরভঞ্জের কবি রঘুনাথ মুর্মু ১৯২৫ সালে সৃষ্টি করেন অলচিকি লিপি। পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশার সাঁওতালরা এই লিপি সর্বজনীনভাবে গ্রহণ করেছেন।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে উপাচার্যের কাছে সাঁওতালি বিভাগ খোলার আবেদন জানানো হয়েছিল। উপাচার্য সুরঞ্জন দাস আগ্রহ প্রকাশ করে চিঠি দেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তরে। কিছুদিন আগে রাজ্য সরকার ছাড়পত্র দিয়েছে। মহানগরে প্রথম সাঁওতলি বিভাগ চালু হল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। পশ্চিমবঙ্গের বহু মানুষের মাতৃভাষা সাঁওতালি। এবার প্রচুর ছাত্রছাত্রী কলকাতায় এসে সাঁওতালি ভাষা ও সাহিত্যে উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে পারবেন। আশা করা যায়, যাদবপুরের দেখানো পথে হেঁটে শহরের অন্যান্য কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে সাঁওতালি পঠনপাঠন শুরু হবে।
অলচিকি লিপি
নতুন বিভাগ গঠনের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হলেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনও ঠিক করতে পারেনি আসনের সংখ্যা এবং অধ্যাপক-অধ্যাপিকাদের নাম। তবে একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। যেখানে রয়েছেন তুলনামূলক সাহিত্য, বাংলা, ইংরেজি, সংস্কৃতের বিভাগীয় প্রধানরা, স্কুল অফ লিঙ্গুইসটিকসের ডিরেকটর, ইতিহাস বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডঃ মেরুনা মুর্মু, চলচ্চিত্রবিদ্যার অ্যাসিসট্যান্ট প্রফেসর শ্রীমতী শ্রদ্ধাঞ্জলি তামাং। সাঁওতালি ভাষা ও সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।