সিনেমার ‘উড়োজাহাজ’ নিয়ে আসছেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত

বাস্তবের রূঢ়তা এবং আমাদের সহজ সরল স্বপ্ন, এই দুই মুহূর্তকে সবসময় নিজের ছবির মাধ্যমে মিলিয়ে দিয়েছেন সত্তর বছরের কোঠা পেরনো পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত। এবার একটি ভাঙা উড়োজাহাজকে ঘিরে মানুষের স্বপ্ন নিয়ে তিনি দর্শকদের সামনে হাজির হতে চলেছেন। ছবির নাম “উড়োজাহাজ”। মূল চরিত্রে অভিনয় করছেন চন্দন রায় সান্যাল এবং পার্নো মিত্র। এবছরেই মুম্বাই ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের স্পটলাইট বিভাগে ইতিমধ্যে ছবির প্রদর্শনী হয়েছে।
বুদ্ধদেববাবু বয়সজনিত কারণে বারবার অসুস্থ হলেও ছবির গল্প বলা তাঁকে ফিরিয়ে এনেছেন রূপোলী পর্দায়। ম্যাজিক রিয়ালিজম বা জাদু বাস্তবতা তাঁর চিন্তাভাবনাকে গ্রাস করে বারবার। বারবার তিনি মানুষের সহজ সরল রুক্ষ গল্পগুলো বলার সময় ফিরে যান অতীত কিংবা আগামীতে। কোনো এক অতলে পৌঁছে চরিত্রকে বোঝার এবং বোঝানোর দায় বরাবর তিনি নিতে জানেন। ‘টোপ’ ছবির পর ‘উড়োজাহাজ’-এর গল্প মানুষকে প্রত্যাশা জাগাবে। তাছাড়া বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের ছবির আলাদা দর্শক আছে। গল্পের মোচড়ে নিজেকে ভাঙতে চান তিনি, ঝুঁকি নিতে জানেন। ‘উড়োজাহাজ’ বুদ্ধদেবের নিজের লেখা গল্প। মুখ্য চরিত্রাভিনেতা চন্দন রায় সান্যাল ‘টোপ’ ছবিতেও ছিলেন। সেখানে একটি শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন
বাংলার রসগোল্লা এবং খুদে নবীন ময়রার গপ্প
একটি স্বপ্নকে কেন্দ্র করে ছবির গল্প নির্মিত হয়েছে। সেই স্বপ্নটা একটি উড়োজাহাজকে নিয়ে। একজন মানুষের ছোটো ছোটো স্বপ্ন কখনও কখনও রাষ্ট্রের কাছে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ছবিতে চন্দন বা পার্নো ছাড়াও আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র রয়েছে। আর সেটা হল উড়োজাহাজ। ছবির জন্যই একটি আস্ত উড়োজাহাজ নির্মাণ করা হয়েছে। বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের গল্পে উপস্থিত থাকে রাজনীতির সূক্ষতা। কীভাবে এক মোটর মেকানিক নিজের স্বপ্নকে তাড়া করতে গিয়ে প্রশাসনের মুখে পড়ে, সেই নিয়েই এ গল্প। এই মেকানিকের চরিত্রেই রয়েছেন চন্দন। কোনো একদিন সে প্লেন চালাবে, সেই স্বপ্নেই বিভোর। আর কাকতালীয়ভাবে জঙ্গলে একটা পরিত্যক্ত প্লেন পেয়েও যায়। স্বপ্ন দেখা আরও গভীরে যায়। ওই অকেজো উড়োজাহাজকে সারিয়ে তুলতে চেষ্টা করে। কিন্তু বিষয়টা প্রশাসনের নজরে এলে সবাই ভাবে, ভিতরে অন্য কিছু রয়েছে। কেউ বিশ্বাস করতে চায় না এটি আসলে স্বপ্নপূরণের গল্প।
এই আমাদের পৃথিবী। নিজের স্বপ্নকে প্রকাশ করতে না পারার পৃথিবী। বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের ছবিতে লং শটের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হল মানুষের দীর্ঘকালীন স্ট্রাগেল। যা স্বচ্ছ আয়নার মতো, নিজেকে দেখা যায়। আসলে মানুষের অরিজিনাল কিছু গল্প বলতে চান বুদ্ধদেব। আর সেটা শুধুমাত্র একটি চরিত্রেই আটকে থাকে না। ক্যামেরার ফ্রেম, আবহ, লোকেশন সবকিছুই পাশাপাশি হাত ধরে হাঁটতে থাকে। এর আগে ‘নিম অন্নপূর্ণা’, ‘তাহাদের কথা’, ‘চরাচর’, কিংবা ‘আমি, ইয়াসিন আর আমার মধুবালা’ ছবিতে জাদু বাস্তবতার প্রকট চিত্র দেখেছি। বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর আগামী ছবি ‘উড়োজাহাজ’-এর জন্য অপেক্ষা বাড়তে থাকল।