৯৪ বছর পার, এখনও থামেনি হাওড়া স্টেশনের বড়ো ঘড়ি

আর মাত্র বছর ছয়েক পথ চললেই শতবর্ষে পা রাখবেন তিনি। সেই ঔপনিবেশিক যুগ থেকে বর্তমান সময়ের সবটুকু পরিবর্তন প্রতিক্ষণে বয়ে নিয়ে চলেছেন মহান সাক্ষীর মতো। তিনি হাওড়া স্টেশনের বিখ্যাত বড়ো ঘড়ি। নিত্যদিনের অগুন্তি মানুষ চলার পথে সময় বুঝে নেন এ ঘড়িতে চোখ রেখেই। থেমে থাকার অভ্যেস তার নেই। সময় এগিয়েছে, আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে ট্রেনের কামরা থেকে শুরু করে স্টেশন চত্বরের সর্বত্র। কেবল একই আদলে একই অবয়বে থেকে গিয়েছে ৯৪ বছর বয়সী প্রাচীন বড়ো ঘড়িটি। লন্ডনের বিগ বেনের মতোই হাওড়ার বড়ো ঘড়িও হয়ে উঠেছে পরিচিত ল্যান্ডমার্ক। ১৯২৬ সালে প্রথম একটি কাঠের ভারী ফ্রেমে লাগানো হয় এই দু-মুখো ঘড়িটি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা থেকে শুরু করে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম, এমনকি স্বাধীনতা অর্জনের উচ্ছ্বাস -সবকিছুই দেখেছে এই ঘড়ি। যে সময়ে ঘড়িটির জন্ম হয়েছিল তখন অবশ্য বিদ্যুৎ চালিত রেলের পথ চলা শুরু হয়নি, স্টিম ইঞ্জিনই ছিল তখন রেলওয়ের রাজা। সেই থেকেই এ ঘড়ি টিক টিক, ঢং ঢং শব্দ করে চলেছে। প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো এই ঘড়িটি নিজের অবস্থান পাল্টায়নি কখনও। হাওড়া ব্রিজ পেরিয়ে লাল রঙা বিশাল হাওড়া স্টেশন বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীনতম স্টেশন এবং ভারতের বৃহত্তম রেলওয়ে কমপ্লেক্সগুলির মধ্যে একটি। ১৯০৫ সালের ১ ডিসেম্বর, ছয়টি প্ল্যাটফর্ম নিয়ে পথ চলা শুরু করে হাওড়া স্টেশন।
বর্তমানে, হাওড়া স্টেশন সমগ্র পূর্ব ভারতের ‘লাইফলাইন’। লোকাল, এক্সপ্রেস মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ টি ট্রেনের আনাগোনা এ স্টেশনে। পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের সবথেকে ব্যস্ততম রেল স্টেশনগুলির মধ্যে এটি একটি। প্রায় এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষের ভ্রমণ, ব্যবসা এমনকি নিত্যযাতায়াতের সাক্ষী সে। ১৯০০ সালে বেঙ্গল-নাগপুর রেলওয়ে হাওড়া পর্যন্ত সম্প্রসারিত হওয়ায় হাওড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে কেন্দ্রে পরিণত হয়। ঢেউ তোলা লোহার গরাদ, লাল ইটের শালীন কাঠামো আর পুরোনো ধাঁচের এই স্টেশনটি ক্রমে ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীনতম স্টেশনে রূপান্তরিত হয়। এহেন আইকনিক হাওড়া স্টেশন কমপ্লেক্সের সবচেয়ে বিখ্যাত ল্যান্ডমার্ক হল বড়ো ঘড়ি। এ ঘড়ির সামনে দাঁড়িয়েই কেউ কেউ জিরিয়ে নেয় খানিক, কেউ আবার ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকিয়ে আকুলভাবে কারও অপেক্ষা করে।
আরও পড়ুন: কলকাতা শহরে রয়েছে ব্রিটেনের আদলে বিগ বেন ঘড়ি
বিশ্বযুদ্ধের সময়কালে জীবনের বাজি রেখে কাজ করা রেলওয়েম্যানদের স্মৃতি ধরা রয়েছে এই ঘড়ির কাঁটায়। দু-মুখো এই ঘড়ির ডায়ালের ব্যাস ৪৫ ইঞ্চি। ঘণ্টার কাঁটাটি লম্বায় ১৮ ইঞ্চি, আর মিনিটের কাঁটাটি লম্বায় ২৪ ইঞ্চি। একটি ডায়াল রয়েছে ১ নম্বর থেকে ৮ নম্বর প্ল্যাটফর্মের মুখোমুখি এবং অন্যটি ৯ থেকে ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মের মুখোমুখি। ৯২ বছর আগে যুক্তরাষ্টের জেন্টস দ্বারা নির্মিত, এই কিংবদন্তি ঘড়িটি আজও চলছে নির্ভুল গতিতে!
মূল প্রতিবেদনটি ইংরেজিতে পড়তে এখানে ক্লিক করুন