স্বকণ্ঠে শঙ্খ ঘোষ : ত্রয়োদশ পর্বে শুনুন ‘স্পর্ধা’ ও ‘বর্ম’
শঙ্খ ঘোষ (৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৩২ - ২১ এপ্রিল ২০২১) ছিলেন বাংলা তথা ভারতের একজন শক্তিমান কবি, চিন্তক, অধ্যাপক ও সাহিত্য-সমালোচক। বিশিষ্ট রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ হিসাবে প্রসিদ্ধ ছিলেন শঙ্খবাবু। ‘বাবরের প্রার্থনা’ কাব্যগ্রন্থটির জন্য পান দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার সাহিত্য অকাদেমি। গদ্যগ্রন্থ ‘বটপাকুড়ের ফেনা’-র জন্য ২০১৬ সালে পান ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান জ্ঞানপীঠ পুরস্কার। পি অ্যান্ড এম রেকর্ডস আজ থেকে প্রায় দুই দশক আগে রেকর্ড করেছিল শঙ্খ ঘোষের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা। মহান কবিরা নিজের শরীর ত্যাগ করলেও আমাদের ছেড়ে যান না। লেখাই তাঁকে জীবিত করে রাখে। ধরুন শঙ্খ ঘোষ তাঁর কবিতা পড়ছেন আবার। আবার তাঁর গমগমে কণ্ঠ আমাদের ফিরিয়ে দেবে বহু স্মৃতি। শঙ্খ ঘোষের অসংখ্য কবিতা শোনানো হচ্ছে বঙ্গদর্শন.কম-এ। প্রতি সোমবার প্রকাশিত হচ্ছে দুটি করে কবিতা। আজ ত্রয়োদশ পর্বে কবিকণ্ঠে শুনুন ‘স্পর্ধা’ ও ‘বর্ম’।
স্পর্ধা
শঙ্খ ঘোষ
তার কোনো খ্যাতি নেই তার জন্মপরিচয় নেই
তার কোনো মুক্তি নেই লোকে যাকে মুক্তি বলে থাকে
যতদূর দেখা যায় সারি সারি কম্বল, পশম
আর কোনো ঢেউ নেই ঢেউয়ের সংঘর্ষে দ্যুতি নেই।
জীবন এত যে ভালো, সে-জীবনে অধিকার নেই
লজ্জাহীন সুন্দরের মুখে কোনো ম্লান আভা নেই
সারি সারি উট আর উটের চোখের নিচে জল
দু-হাত বাড়িয়ে দেখে আর কোনো জলচিহ্ন নেই--
তবু সে এমনভাবে কোন স্পর্ধা করে বলে যায়,
‘আমার দুঃখের কাছে তোমাদের নত হতে হবে!’
বর্ম
শঙ্খ ঘোষ
‘ও যখন প্রতিরাত্রে মুখে নিয়ে এক লক্ষ ক্ষত
আমার ঘরের দরজা খোলা পেয়ে ফিরে আসে ঘরে
দাঁড়ায় দুয়ারপ্রান্তে সমস্ত বিশ্বের স্তব্ধতায়
শরীর বাঁকিয়ে ধরে দিগন্তের থেকে শীর্ষাকাশ
আর মুখে জ্বলে থাকে লক্ষ লক্ষ তারার দাহন
অবলম্বনহীন ওই গরিমার থেকে ঝুঁকে প’ড়ে
মনে হয় এই বুঝি ধর্মাধর্মজ্ঞানহীন দেহ
মুহূর্তে মূৰ্ছিত হলো আমার পায়ের তীর্থতলে–
শূন্য থেকে শূন্যতায় নিরাকার অস্ফুট নিশ্বাস
মধ্যযামিনীর স্পন্দে শব্দহীন হলো, তখনও সে
দূর দেশে দুর কালে দূর পৃথিবীকে ডেকে বলে :
এত যদি ব্যুহ চক্ৰ তীর তীরন্দাজ, তবে কেন
শরীর দিয়েছ শুধু বর্মখানি ভুলে গেছ দিতে?
প্রতি সোমবার ৩টেয়, বঙ্গদর্শনের পডকাস্টে ‘স্বকণ্ঠে শঙ্খ ঘোষ’ শোনার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল। ক্লিক করুন এখানে।