পিরিয়ডসকে ন্যাপকিন মুক্ত করার অভিনব বার্তা নিয়ে পথে নামলেন একদল পড়ুয়া

এখনও ঋতুস্রাব চলাকালীন আমাদের দেশের অধিকাংশ মেয়ে নানান সমস্যার মুখে পড়েন। কোথাও যুগ যুগ ধরে চলা সংস্কার, তো কোথাও অর্থের অপ্রতুলতা হয়ে ওঠে যথাযথ সুরক্ষার প্রতিবন্ধক। বেশ কিছু জায়গায় এখন স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন লাগানো হয়ে থাকে। তবে এরকমও দেখা যায়, বহু ক্ষেত্রেই প্যাডের মান অত্যন্ত খারাপ। সবথেকে চমকে দেওয়ার ব্যাপার হল, সহজলভ্য বেশিরভাগ স্যানিটারি ন্যাপকিনই পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকর। কারণ, সেগুলির মধ্যে ৯০ শতাংশ প্যাডই তৈরি হয় প্লাস্টিক দিয়ে। ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের ন্যাপকিন নর্দমা জমে জলনিকাশী ব্যবস্থাকে রুদ্ধ করতে পারে। সেই তুলনায় মেনস্ট্রুয়াল কাপের ব্যবহার অনেক বেশি পরিবেশ-বান্ধব। এই মেনস্ট্রুয়াল কাপ অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর হলেও, এটি বিশেষ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি আজও। রয়ে গেছে অনেক অজ্ঞতা, প্রশ্ন, কনফিউশন। সেগুলি যতটা সম্ভব দূর করে মেনস্ট্রুয়াল কাপের বিষয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দিয়ে অভিনব উদ্যোগ নিল ‘ফ্রাইডেজ ফর ফিউচার কলকাতা’।
গত ৩০ আগস্ট শুক্রবার নিউ মার্কেটে জড়ো হয়েছিলেন এই গোষ্ঠীর সদস্য জনা ২০ যুবক-যুবতী। এরা সবাই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া। একজনের হাতে ছিল গ্লোবের ওপর লাগানো রক্ত মাখা প্যাড। পাশের জনের হাতে প্ল্যাকার্ডে লেখা, “প্লাস্টিক প্যাড নয়, কাপে ভরুক রক্ত – ব্লিড গ্রিন”। রয়েছে আরও কিছু প্ল্যাকার্ড। পাশাপাশি, কৌতুহলী পথচারীদের খুব সহজ ভাষায় পরিবেশ দূষণ রোধে মেনস্ট্রুয়াল কাপের প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন তিথি রায়, স্নেহা দাস, আলতাব হোসেনরা। মূলত তিনটি উদ্দেশ্য নিয়ে সেদিন তাঁরা রাস্তায় নেমেছিলেন। এক, প্লাস্টিকমুক্ত ঋতুস্রাবের জন্য সচেতনতা মানুষের সামনে তুলে ধরা। দুই, ঋতুস্রাবকে আরও স্বাস্থ্যসম্মত করে তোলার প্রচার। এবং তিন, ঋতুস্রাব বিষয়ক সামাজিক কুপ্রথাগুলির অবসান ঘটানো।
স্যানিট্যারি ন্যাপকিনের থেকে মেনস্ট্রুয়াল কাপের দাম বেশি। একেকটি মেনস্ট্রুয়াল কাপের দাম ৩০০ থেকে ১৭০০-১৮০০ টাকা পর্যন্ত। তবে, এগুলো পুনর্ব্যবহারযোগ্য। একবার ব্যবহারের পর গরম জলে ফুটিয়ে নিলেই আরেকবার ব্যবহারের উপযোগী হয়ে পড়ে এগুলি। মেনস্ট্রুয়াল কাপ পরে নিলে হাইমেন ছিঁড়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকে না। এই যেহেতু ন্যাপকিনের মতো রক্ত শোষণ করে না, তাই সংক্রমণের ভয় প্রায় নেই। এটি পরে ১২ ঘণ্টার মতো নিশ্চিন্ত থাকা যায়, শরীরচর্চা, নাচ, সাইকেল চালানো, খেলাধুলো – সব কিছুই করা যায় অনায়াসে। এর সবথেকে বড়ো উপকারিতা হল, জামাকাপড়ে দাগ লাগার কোনো সম্ভাবনা থাকে না এতে।