ঝাড়গ্রামের আমলাশোল : সপ্তাহান্ত কাটানোর নতুন গন্তব্য

ঝাড়গ্রাম জেলার সুন্দর পিচের রাস্তা ধরে লালগড় জঙ্গলের পাশ দিয়ে যেতে যেতে চোখে পড়বে আমলাশোল, রাইশোল, ছাতিনাশোল – অপূর্ব সব গ্রাম। জঙ্গলমহলে এখন শান্তি ফিরে এসেছে। বেশ কয়েকবছর আগে থেকেই পর্যটকদের কাছে পরিচিত হয়েছে ঝাড়গ্রাম জেলা-র বেলপাহাড়ির কাঁকড়াঝোড়, ময়ূরঝরনা, ঘাগড়া, কেতকি লেক, খন্দরানির লেক, লালজল গুহা, ঢেউ খেলানো। ছোটো-বড়ো পাহাড়ি টিলার গা বেয়ে সরু জঙ্গলের রাস্তা ধরে এগোলেই মাঝে মাঝে চোখে পড়তে পারে পেখম মেলা ময়ূর কিংবা হাতির দল।
সপ্তাহান্তে পর্যটকরা সেখানে যাচ্ছেন, দুটো রাত থাকছেন, ঘুরে দেখছেন গ্রাম। কর্মসংস্থানের নতুন পথ খুলে গেছে পর্যটনের হাত ধরে। রাস্তাঘাট থেকে পানীয় জল, দুয়ারে রেশন সবকিছুই ব্যবস্থা রয়েছে আমলাশোল গ্রামে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য পর্যটনের উপর জোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলা প্রশাসনকে। সেই মতো বেলপাহাড়ির আনাচে-কানাচে গড়ে ওঠে বহু হোম-স্টে ও গেস্ট হাউস। সেই তালিকা থেকে বাদ পড়েনি আমলাশোল গ্রামও। সেখানেও গড়ে উঠেছে সাত থেকে আটটি হোম-স্টে।
একসময়ের অনাহারের গ্রাম আমলাশোল। কোনোরকমে সংসার চালাতেন গ্রামবাসীরা। এখন বেশ কয়েকটি পরিবারের মুখে হাসি ফুটেছে হোম-স্টেগুলির জন্য। সপ্তাহান্তে পর্যটকরা সেখানে যাচ্ছেন, দুটো রাত থাকছেন, ঘুরে দেখছেন গ্রাম। কর্মসংস্থানের নতুন পথ খুলে গেছে পর্যটনের হাত ধরে। রাস্তাঘাট থেকে পানীয় জল, দুয়ারে রেশন সবকিছুই ব্যবস্থা রয়েছে আমলাশোল গ্রামে। পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় বছরে কেবলমাত্র বৃষ্টির জলের উপর ভরসা করেই একবার চাষ হয়। গ্রামের মানুষজনের কর্মসংস্থানের একটা অভাব ছিল। ঝাড়গ্রাম গেলে এখন শুধু আর বেলপাহাড়ি বা খন্দরানি নয়, ঘুরে আসা যায় আমলাশোল থেকেও।