বাংলা সাহিত্যের চিরকালীন ‘মৃত্যু-পথযাত্রী’ বিমল কর

বাংলা কথাসাহিত্যে বিমল কর বহুল আলোচিত একজন ব্যক্তিত্ব। চল্লিশের শেষে তাঁর উত্থান এবং পঞ্চাশের দশকেই প্রতিশ্রুতিশীল গল্পকার হিসেবে সমালোচকদের কাছ থেকে সমীহ স্বীকৃতি আদায় করে নিয়েছিলেন। নতুন চেতনা প্রবাহের গল্পমালার উদগাতা হিসেবে সেই সময় সাহিত্য জগতে যে আলোড়ন উঠেছিল, তার উচ্ছ্বাস এখনও বাংলা কথাসাহিত্যের জগতে মিলিয়ে যায়নি। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে বারবার খেয়াল করে দেখা গেছে এই আন্দোলন এখন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকারদের একটি প্রিয় বিষয়।
আজ সাহিত্যিক বিমল করের মৃত্যুদিন। খেয়াল করলে দেখা যাবে, তাঁর গল্পে বারবার অপরিহার্যভাবে উঠে এসেছে মৃত্যুর কথা। যার সামনে আমরা সবাই অসহায়। বেশিরভাগ গল্পেই মৃত্যু একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। চরিত্রেরা সামাজিক দিক থেকে ব্যর্থ। এই বাঁধাধরা জীবন তাদের জন্য নয়। শেষমেশ তাই হয়তো মৃত্যুকেই বেছে নেন.।
বিমল করের জন্ম আসানসোলে। তাঁর গল্পেও কলকাতার উপস্থিতি খুব কম এসেছে। কলেজ জীবনের আগে পর্যন্ত তাঁর কিশোরবেলা কেটেছে আসানসোলে, কালিপাহাড়ি, বরাকর ও কুলটি অঞ্চলে। পড়াশোনার জন্য চলে আসেন কলকাতায়। বিমল কর লেখক হবেন — এই রকম বাসনা তাঁর প্রথম জীবনে ছিল না। তবে খুব ভালো পাঠক ছিলেন। তাঁর পড়ালেখা ছিল সমকালীন দেশি-বিদেশিদের গল্প উপন্যাস। বলতে গেলে নাক ডুবিয়ে এই সমস্ত উপন্যাস পাঠে বিমল কর নিজেও বেশি উপকৃত হয়েছেন।
শুধুমাত্র বিষণ্নতাবোধ নয়। তার মধ্যেই খুঁজে পেয়েছেন চরম আশাবাদের আলো। 'ওরা' গল্পে লিখলেন,
“আফটার অল শূন্য থেকে আমরা শুরু করেছিলাম, এখন এক দুই করে নয় পর্যন্ত এসেছি। আমরা শূন্য আশা করব—পরের শূন্য আসুক— কিন্তু শুরুর শূন্য না, শেষের শূন্য”।
বিমল কর। বাংলা সাহিত্যের মৃত্যু-পথযাত্রী।