‘ভালো কাজের হোটেল’ : সারাদিনে একটি ভালো কাজ করলেই জুটবে পেটভর্তি খাবার

ঢাকা শহরের কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে কমলাপুর আইসিডি কাস্টমস হাউস লাগোয়া একটি ব্যতিক্রমী হোটেল। দুপুর হলেই এখানে মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। কোনো চেয়ার-টেবিলের ব্যবস্থা নেই। ওয়েটার বা ক্যাশ কাউন্টারও নেই। ঘণ্টি বাজিয়ে হাজির হবে একটি গাড়ি। সেই গাড়ি থেকে নামবেন একজন স্বেচ্ছাসেবক। কাগজ-কলম হাতে নিয়ে জনগণের উদ্দেশ্যে তাঁর প্রশ্ন থাকবে, “আপনার নাম কী?” এবং “আপনি কি আজ কোনো ভালো কাজ করেছেন?” কাজ আক্ষরিক অর্থেই ভালো ও সৎ মনে হলে তাঁদের হাতে তুলে দেবেন খাবারের প্যাকেট।
সমাজের ভাবমূর্তি পাল্টে দেওয়া এই ‘অদ্ভুত’ হোটেলের নাম ‘ভালো কাজের হোটেল’। সারাদিন ভালো কাজ করলেই পাওয়া যাবে বিনামূল্যে পেটভর্তি খাবার। ধরুন, কোনো মানুষকে দুর্ঘটনার হাত থেকে কেউ বাঁচালেন, কেউ আবার অন্ধ মানুষকে রাস্তা পারাপার করতে সাহায্য করলেন – তাহলেই জুটে যাবে খাবার। কোনটাকে ‘ভালো কাজ’ বলা হবে, সে সব বিচার কেউ করবেন না। নিজের কাছে সেই কাজটি ভালো মনে হলেই হল। কেউ যদি সারদিনে একটাও ভালো কাজ না করেন, তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে না। পরেরদিন একসঙ্গে দুটি ভালো কাজ করতে হবে তাঁকে।
২০১৯ সালে শুরু হয় ‘ইয়ুথ ফর বাংলাদেশ’ নামক গোষ্ঠীর এই উদ্যোগ। উদ্যোক্তাদের মতে, একটি ভালো কাজ কেবলমাত্র একটি ভালো কাজ নয়, অসংখ্য খারাপ কাজকেও পিছনে ফেলে দিতে পারে। বিশেষ করে সমাজের প্রান্তিক জীবিকার মানুষরা অভাবের তাড়নায় অনেক সময়েই খারাপ কাজ করে থাকেন। কেউ চুরি করেন, কেউ মানুষকে ঠকিয়ে বাড়তি রোজগারের চেষ্টা করেন। এগুলো না করলে হয়তো একবেলা না খেয়েই থাকতে হবে তাঁদের। কিন্তু তাঁরাই যদি ভালো কাজ করার বিনিময়ে খাবার পান, তাহলে সমাজে খারাপ কাজের উদাহরণ ক্রমশ কমে আসবে।
আগে সপ্তাহে একদিন বসত এই হোটেলের আসর। এখন করোনা পরিস্থিতিতে অনেকেই আর্থিক অভাবে ঠিকঠাক খেতে পারছেন না দুইবেলা। তাই প্রতিদিন হোটেল চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। খাবারের তালিকায় থাকে খিচুড়ি, ডিমের ভুনা। মাঝে মাঝে পোলাও বিরিয়ানির ব্যবস্থাও করা হয়। এই মহান উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিত্বরা।