প্যারিসে আন্তর্জাতিক সম্মান পেল বাংলার ‘সুন্দরীনি’

সম্প্রতি আয়োজিত হয়েছিল প্যারিসে আন্তর্জাতিক ডেয়ারি ফাউন্ডেশনের বার্ষিক অনুষ্ঠান। সেখানে গোটা বিশ্বের ১৫৩টি ডেয়ারি সংস্থা ‘ডেয়ারি ইনোভেশন’ সম্মানের জন্য আবেদন করেছিল। তাদের মধ্যে সেরা নির্বাচিত হয়েছে সুন্দরবনে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের নিয়ে গঠিত সুন্দরীনি প্রকল্প (Sundarini Scheme)। স্বাভাবিক ভাবেই রাজ্যের সমবায় সংস্থা-র আন্তর্জাতিক সাফল্যে উচ্ছ্বসিত বাংলার মানুষ।
সূত্রের খবর, প্রত্যেক দিন প্রায় ২০০০ লিটার দুধ এবং ২৫০ কেজি দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন করে সুন্দরীনি। ৪ কোটি টাকা গ্রামীণ মহিলাদের জন্য গত অর্থবছরে এই প্রকল্প থেকে আয় হয়েছিল। প্রকল্পে বর্তমানে প্রায় পাঁচ হাজার মহিলা যুক্ত।
সুন্দরবনের মহিলারা প্রাণীসম্পদ বিকাশ দফতর ও সুন্দরবন উন্নয়ন দফতর-এর সহায়তায় এই স্বনির্ভর গোষ্ঠী চালায়৷ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিকপ্রসূত এই সুন্দরীনি প্রকল্প শুরু হয় ২০১৫ সালে। তখন অল্প মহিলা যুক্ত ছিলেন। দিন দিন বহু মহিলা এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। কয়েকদিন আগে সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লিখেছিলেন, ‘‘সুন্দরবনের মহিলাদের সাফল্যে আমরা উচ্ছ্বসিত। আমি সুন্দরীনি দুগ্ধ সমবায়ের সঙ্গে যুক্ত মহিলাদের এবং আধিকারিকদের শুভেচ্ছা জানাতে চাই।”
সূত্রের খবর, প্রত্যেক দিন প্রায় ২০০০ লিটার দুধ এবং ২৫০ কেজি দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন করে সুন্দরীনি (Sundarban Co-operative Milk & Livestock Producer's Union Limited)। ৪ কোটি টাকা গ্রামীণ মহিলাদের জন্য গত অর্থবছরে এই প্রকল্প থেকে আয় হয়েছিল। প্রকল্পে বর্তমানে প্রায় পাঁচ হাজার মহিলা যুক্ত। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সুন্দরবনের ৯টি ব্লকের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা-রা এই প্রকল্পে যুক্ত রয়েছেন। ৭০টি সমবায় সমিতি তৈরি করে এই নয়টি ব্লক থেকে দুধ সংগ্রহ করা হয়। সেখানে চিলিং পয়েন্টে রেখে দুধ ঠান্ডা করার পরে কলকাতার চৌবাগা এলাকায় সুন্দরীনির কারখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে এক দিকে যেমন দু-হাজার লিটার দুধ বোতলজাত করা হয়, তেমনই বাকি দুধ দিয়ে নানা ধরনের দুগ্ধজাত দ্রব্য তৈরি করা হয়। এরপরে এই সমস্ত উৎপাদিত পণ্য শহর কলকাতা সহ বিভিন্ন রেল স্টেশন, বিমানবন্দরের আউটলেট থেকে বিক্রি করা হয়। বর্তমানে রাজ্যে সুন্দরীনির মোট ১৭টি আউটলেট রয়েছে।