আড়ালে থেকেই চলে গেলেন কবি পার্থপ্রতিম কাঞ্জিলাল

“স্বপ্নের মতো আয়ু চলে যায় কখনো বা দ্রুত, কখনও বিলম্বিত” — এমনই একটি লাইন লিখেছিলেন কবি পার্থপ্রতিম কাঞ্জিলাল। ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কবিতাবই ‘দেবী’। প্রকাশনা : অভিজ্ঞান, প্রকাশক : নিশীথ ভড়। ষাটের মাঝামাঝি থেকেই লেখালেখি করে আসছেন তিনি। তাঁর কবিতাবইয়ের সংখ্যা প্রায় আটটি। তাছাড়া রয়েছে কবিতা সংগ্রহ।
‘দেবী’-র প্রকাশলগ্নে কবির বয়স মাত্র ২১ বছর। এই বয়সেই তিনি অর্জন করেছিলেন নিজস্ব ভাষা। এরপর ‘রাত্রি চতুর্দশী’, ‘টেবিল’, ‘দূরের সন্ধ্যা’, ‘পাঠকের সঙ্গে ব্যক্তিগত’, ‘বর্ণজীবের সনেট এবং আগন্তুক’, ‘শাদা পাথরের গোলাপগুচ্ছ’, ‘নবান্ন’ প্রত্যেকটি বই-ই ছুঁয়ে গেছে বিষয় ও বিষয়হীনতার দ্বন্দ্বে।
পার্থপ্রতীম কাঞ্জিলালের কবিতা
‘দেবী’-র নামকবিতায় তিনি লিখছেন, “যা কিছু সর্বস্ব হতে পারে, দেবী, তার বাইরেও অতিরিক্ত কিছু/ বেড়ে ওঠে, কিছু ফুটে ওঠে/ উৎসর্গ থাকবে তাই, কিংবা উপহার। এই গ্রহে/ প্রথমে প্রকৃতির সামনে, পরে আমাদেরই প্রকৃতি সম্মুখে/ আমরা রয়েছি ঠিক পূর্বপুরুষেরই মতো অসহায়/ পতাকা রয়েছে আমাদের সেরকমই প্রতিষ্ঠা উন্মুখ।/ হে লীয়মান নিদ্রিত সৌন্দর্য, জাগো ভ্রুকুটি নিয়ে/ সংহারে ছলনা নিয়ে।/ হে মাহাত্ম্য, অজস্র আত্মতা আজ হননে নিরাশ হয়ে/ তোমার প্রতীক্ষায় আকুল।/ হে ঐশ্বর্য, নিজেকে উৎসর্গ করো ঐশ্বর্যবিহীন আর দারিদ্রবিহীন/ সাম্য-রূপ-শিল্প অভিষেকে।”
আরও পড়ুন: ইতিহাসের ধূসর জগতে ঢোকার পথ দেখান শরদিন্দু
আজীবন লিখে গেছেন। কিন্তু পাঠক সংখ্যা নিমিত্তমাত্র। এই প্রজন্মের অনেক কবিই হয়তো পার্থপ্রতিম কাঞ্জিলালের নামই শোনেননি। এই অতিমারীতে আরেকটি দুঃসংবাদ এল আজ সকালে। প্রয়াত হলেন আড়ালে থাকা এক নিঃসঙ্গ কবি পার্থপ্রতিম কাঞ্জিলাল। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। কবি পার্থপ্রতিম কাঞ্জিলালকে জানাই শ্রদ্ধা।