No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    শিলিগুড়ির দৌড়বিদ সীমা চক্রবর্তীর পাশে আজ সারা বাংলা

    শিলিগুড়ির দৌড়বিদ সীমা চক্রবর্তীর পাশে আজ সারা বাংলা

    Story image

    শৈশবে স্কুলে পড়ার সময় শুরু হয় তাঁর দৌড়। আজ ৩৫ বছর পরেও তা ছাড়তে পারেননি শিশিগুড়ি (Siliguri) শান্তিনগরনিবাসী সীমা চক্রবর্তী (Sima Chakraborty)। তাঁর বাড়িতে স্বামী, সন্তান রয়েছে। অভাবের জ্বালাও রয়েছে তীব্র। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ সব দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য ঘরের সোনাগয়নাও তাঁকে বিক্রি করতে হয়েছে অনেকসময়।

    দৌড়ের কারণে কিছু দিন আগে তামিলনাড়ুতে অনুষ্ঠিত জাতীয় দৌড় প্রতিযোগিতায় পদক পেয়েছেন সীমা। এমনকি হুগলির (Hooghly) চুঁচুড়াতে অনুষ্ঠিত দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপালের প্রতিযোগীদের হারিয়ে সীমা চক্রবর্তী চারশো, আটশো এবং পনেরশো মিটার তিনটি পর্বেই প্রথম স্থান অধিকার করে সোনা জিতেছেন। সামনে বাংলাদেশের ঢাকায় একটি দৌড় প্রতিযোগিতা থেকেও পদক আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

    একদিন দৌড়েই অলিম্পিকে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন সীমা। তাঁর স্বপ্নে আর্থিক অনটনও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

    একদিন দৌড়েই অলিম্পিকে (Olympics) যোগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন সীমা। গত ১২ ও ১৩ নভেম্বর হুগলির চুঁচুড়াতে আন্তর্জাতিক দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ৮০০, ৪০০ এবং ১৫০০ মিটার দৌড়ে সবমিলিয়ে ৮০০ জন প্রতিযোগীকে টপকে সীমাই প্রথম হয়। ছোটোবেলায় জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) জেলার আমবাড়ির গ্রামে থাকার সময়ই ওঁর নেশা চাপে দৌড়ের। এখন শিলিগুড়ি শহরে এসে সংসার করছেন।

    ঘরে রান্নাবান্না এবং সাংসারিক কাজ সামলে একজন দক্ষ দৌড়বিদ হবার স্বপ্ন দেখেন সীমা। দৌড়ে বাংলার সুনাম মেলে ধরলেও আর্থিক অবস্থা তাঁর দৌড়কে সীমিত করে রাখছে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা শিলিগুড়ি অ্যান্ড স্মাইলিং ওয়েলফেয়ার সোসাইটির কর্মকর্তা নবকুমার বসাক সীমাকে বিভিন্ন সময় উৎসাহিত করছেন।

    সীমার এই লড়াই এবং সাফল্য বিভিন্ন মহলকেও উদ্দীপ্ত করছে। বাংলাদেশের ঢাকায় আন্তর্জাতিক দৌড় প্রতিযোগিতাতে যাওয়া প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। অ্যাথলেটিক্স কোচ দেবকুমার দে, প্রশিক্ষক কার্তিক পাল, শ্রীবাস দাস, সুজয় দাম, তরাই ফুটবল গ্রাউন্ডের শিবির, সমাজসেবী ভাস্কর বিশ্বাস, ডঃ সংযুক্তা মৈত্র সকলে মিলে সীমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তরাই স্কুল মাঠের এক অনুষ্ঠানে তাঁকে সংবর্ধনাও দেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রখ্যাত টেবিল টেনিস প্রশিক্ষক ভারতী ঘোষ, ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাথী দাস, স্বপন দাস, সমাজসেবী দীপজ্যোতি চক্রবর্তী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষক দেবকুমার দে জানিয়েছেন, সীমাকে তাঁরা বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য কিছু টাকা তুলে দিতে পেরেছেন। আরও কিছু সহযোগিতা করা হবে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা শিলিগুড়ি অ্যান্ড স্মাইল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির কর্মকর্তা নবকুমার বসাকও শুরু থেকেই সীমার পাশে রয়েছেন। বিশিষ্ট সমাজসেবী জ্যোৎস্না আগরওয়াল জানিয়েছেন, তাঁরা উত্তরবঙ্গ পৌষমেলার তরফে সীমার পাশে রয়েছেন।

    Tags:

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @