No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    ‘বাউল ও লোক উৎসবের’ উদ্বোধন বীরভূমে

    ‘বাউল ও লোক উৎসবের’ উদ্বোধন বীরভূমে

    Story image

    “তোমায় হৃদমাঝারে রাখিব, ছেড়ে দিব না...”

    মঞ্চের ওপরে তখন একসুরে বেজে উঠছে অসংখ্য একতারা। ঘোর লাগা সেই পরিবেশেই বাউলদের সঙ্গে গলা মেলালেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বাংলার শিল্প ও সঙ্গীত জগতের প্রতিটি বিভাগেই গভীর আগ্রহ মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর। বাংলার মাটির নিজস্ব ঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে চেষ্টার সামান্য ত্রুটিও রাখেন না তিনি। এহেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই অসংখ্য লোকশিল্পী, বাউলদের সঙ্গে একই মঞ্চে একদম ভিন্ন মেজাজে দেখলেন বীরভূমের মানুষ।

     

     

    বাংলার লোকগানের ঐতিহ্যকে আরও নিবিড়ভাবে উদযাপনের আকাঙ্ক্ষা নিয়েই বীরভূমের ইলমবাজারে শুরু হল ‘বাউল ও লোক উৎসব’। ৩ জানুয়ারি, এই উৎসবের উদ্বোধন করলেন পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই উৎসব আসলে কেঁদুলির আসন্ন জয়দেব মেলার গৌরচন্দ্রিকা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘লোক প্রসার প্রকল্পের’ আওতায় থাকা এক হাজারেরও বেশি বাউল যোগ দিয়েছিলেন এই উৎসবে। এরই পাশাপাশি উৎসবকে অন্য মাত্রা দিয়েছিল বীরভূমেরই দেড় হাজার লোকশিল্পীর উপস্থিতি। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলার লুপ্তপ্রায় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, গানকে নতুন করে বাঁচিয়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিভিন্ন উৎসবের মঞ্চে অসংখ্য লোকশিল্পীদের যথাযোগ্য সুযোগ করে দেওয়া সেই চেষ্টারই অঙ্গ। আর, রাঙামাটির দেশ বীরভূম তো এমনিতেই মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর হৃদয়ের খুব কাছাকাছি থাকা একটি জায়গা। এই রাঙামাটি, এখানকার বাউলদের গান, জীবনদর্শনের সঙ্গে নিবিড় সখ্য গড়ে উঠেছিল স্বয়ং রবীন্দ্রনাথেরও। রবীন্দ্রনাথের নানা লেখায়, গানের সুরেও যে জড়িয়ে রয়েছে বাউল গানের প্রভাব, সে কথাও অনেকেই জানেন।

     

     

    বাংলার এহেন বাউল ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতে এবং বর্তমান বাউলদের উৎসাহ দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়েই মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী এই উৎসবে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক বাউলের হাতে তুলে দিয়েছেন নগদ পাঁচ হাজার টাকার সাম্মানিক। এরই পাশাপাশি, একতারা ও উত্তরীয় দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়েছে তাঁদের। দশজন প্রখ্যাত বাউল শিল্পীদেরও বিশেষ সম্মান জ্ঞাপন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু লোকগায়করাই নন, আদিবাসী গায়ক, নৃত্যশিল্পী এবং বাদকরাও উপস্থিত ছিলেন এই মঞ্চে। ‘লোক প্রসার প্রকল্পের’ আওতাভুক্ত এমনই ২৮টি আদিবাসী লোকগানের দলকে ধামসা বিতরণ করা হয়েছে এই অনুষ্ঠানে। এরই সঙ্গে, ৫০ জন কীর্তন গায়ককেও প্রদান করা হয়েছে ‘খোল’।

     

     

     

    শান্তিনিকেতনের ‘সোনাঝুরির হাটে’ আদিবাসী নর্তকী-গায়ক-মাদল বাজিয়েদের সঙ্গে সেলফি তোলার সময় আমাদের হয়তো মাথাতেই আসে না, উৎকৃষ্ট মানের বাদ্যযন্ত্র কেনার আর্থিক সামর্থ্যটুকুও নেই এঁদের। এইভাবে চলতে থাকলে অভাবের কোপে পড়েই হয়তো একদিন হারিয়ে যাবে আদিবাসী গান, নাচের এই সমস্ত ঘরানাগুলি। যদি না এখনই তাঁদের দিকে সাহায্যের হাত, উৎসাহের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। ‘লোক প্রসার প্রকল্পের’ মাধ্যমে ঠিক এই চেষ্টাটাই চালিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই প্রকল্পের অধীনে থাকা ১৮-৬০ বছর বয়সী সমস্ত শিল্পীই ১০০০ টাকার মাসিক ভাতা পান। ষাটোর্দ্ধ শিল্পীরা পান সমপরিমাণ টাকার মাসিক পেনশন। এছাড়াও, প্রতিটি সরকারি উৎসবে অংশগ্রহণকারী লোকশিল্পীদেরই অনুষ্ঠান পিছু দেওয়া হয় ১০০০ টাকা করে। এই সমস্ত আর্থিক সাহায্যই সরাসরি পৌঁছে যায় শিল্পীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। রাজ্যের প্রতিটি লোকশিল্পীকেই স্বীকৃতিস্বরূপ পরিচিতি পত্র প্রদান করা হয়েছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। বর্তমানে, এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন মোট ১,৯৪,৪৪৭ জন লোকশিল্পী। ২০১৪-১৫ সালে, প্রকল্পটি ঘোষণার সময়, এর বাজেটের পরিমাণ ছিল ৫০ কোটি টাকা। আর আজ, সেই বাজেটই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬৫ কোটি টাকায়। প্রকল্পের পরিধি যে কতখানি বেড়েছে, তা এই সংখ্যা থেকেই স্পষ্ট। শুধু উৎসবে অংশগ্রহণই নয়, এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত লোকশিল্পীরা বিভিন্ন জেলায় অনুষ্ঠিত একাধিক সেমিনারে যোগ দেওয়ার সুযোগও পান। সেখানে নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতায় শান দেওয়ার প্রক্রিয়াটিও জারি থাকে সমান তালে।

     

     

    শুধু সঙ্গীতই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খেলাধুলো নিয়েও সমান উৎসাহী। তিনি নিজে অত্যন্ত ফিটনেস সচেতন মানুষ। এমনকি, ট্রেডমিলে গতিতে হয়তো হারিয়ে দিতে পারেন অনেক তরুণ ক্রীড়াবিদকেও। স্বাভাবিকভাবেই, তিনি যে গ্রামস্তরে নানা ক্রীড়ার অনুষ্ঠান, উদ্যোগে উৎসাহ দেবেন, তাতে আর আশ্চর্য কী! জঙ্গলমহল কাপ এবং রাঙামাটি ক্রীড়া উৎসব তেমনই দুটি উদ্যোগ। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী এই দুই প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছেন এই অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকেই। রাজ্য সরকারের এই সামগ্রিক প্রচেষ্টাকে সম্মান জানিয়ে সমবেত সঙ্গীতের সময় মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দিয়েছেন লোকশিল্পীরাও।

     

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @