No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    বাংলা থিয়েটারকে মঞ্চের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন বাদল সরকার

    বাংলা থিয়েটারকে মঞ্চের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন বাদল সরকার

    Story image

    বাংলা তথা ভারতীয় থিয়েটারের একটি স্পর্ধার নাম বাদল সরকার। থিয়েটার মানেই শুধু মঞ্চ নয়, বাংলা থিয়েটারকে তা চিনিয়ে দিয়েছিলেন। লাতিন আমেরিকার ‘তৃতীয় চলচ্চিত্র’-এর আদলে বাদল সরকার নির্মাণ করেছিলেন থার্ড থিয়েটার অর্থাৎ তৃতীয় থিয়েটার। দর্শক এবং অভিনেতার মধ্যে দূরত্ব থাকবে সামান্যই। থিয়েটারের নিজস্ব ভাষাকে নিজের মতো করে ভেঙে গড়ে মজবুত করে তুলেছিলেন ধীরে ধীরে। অর্থনীতি, সংস্কৃতি, রাজনীতি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা চিরকাল স্বীকার করে নিয়েছিলেন। যার ফলে নিজের কাজের প্রতি কখনও আপোষ করতে হয়নি তাঁকে। তাঁর ‘থার্ড থিয়েটার’ সেরকম একটি চেষ্টার ফল। মূলত যাত্রা এবং দেশীয় ঐতিহ্যের নির্যাস নিয়ে এই থার্ড থিয়েটারের যাত্রা– যা একান্তই তাঁর নিজস্ব। 

    বাংলা নাটকের কতগুলো প্লটহীন চরিত্র। সেইসব চরিত্রের আবার সুনির্দিষ্ট কোনো বিন্যাস নেই, চরিত্রায়ন নেই। অভিনেতা–অভিনেত্রীরা ইচ্ছে মতো চরিত্র বাছাই করতে পারেন, নাটকের মাঝখানে চরিত্র বদলও করতে পারেন, এমনকি দর্শকেরাও অভিনয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেন। আসলে তাঁর সৃষ্ট এক-একটি চরিত্র শূন্যে থেকেও যেন শূন্যে ভাসমান নয়। একটা অন্তর্লীন যাত্রার সঙ্গী তারা। যেখানে বেঁচে থাকা একটা সার্থক রূপায়ন। তাই প্রত্যেকটি নাটক চূড়ান্ত ইতিবাচক কথাই বলে ওঠে। বার্গম্যান তাঁর চলচ্চিত্রে যদি বলেন, কেন আমাদের বেঁচে থাকতেই হবে; তাহলে বাদল সরকার তাঁর থিয়েটারে বলবেন, মৃত্যুর চেয়ে বেঁচে থাকা অধিক শ্রেয়। তাঁর অ্যাবসার্ড নাটকগুলিতে জীবনের অর্থহীনতা ফুটে উঠলেও শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকার ইচ্ছেই প্রধান হয়ে উঠেছে। আজ নাট্যকার-অভিনেতা বাদল সরকারের ৯৫তম জন্মদিনে বঙ্গদর্শন পরিবার তাঁকে শ্রদ্ধা জানায়। তাঁর ভাবনায় বাংলা থিয়েটার নতুন আলো পাক।
     

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @