মল্লিক ঘাট ফুলের বাজার : এশিয়ার সর্ববৃহৎ বাজারের বর্ণময় ইতিহাস, গল্পগাথা
ধুলোমাখা এই শহরের অলিগলির আনাচে কানাচে ছড়িয়ে নানান ইতিহাস, গল্পগাথা। তার কিছু কিছু হাওয়ায় ভাসে, কিছু প্রায় বিস্মৃত। চওড়া হোক বা সংকীর্ণ, রাস্তা ধরে হাঁটলে চুপি চুপি কথা বলে সময়। যেমন এই সদা ব্যস্ত হাওড়া ব্রিজের নিচটা প্রতিদিন বর্ণময়। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের এক নরম শীতের কুয়াশামাখা ভোরে আমাদের ডেস্টিনেশন ছিল সেখানেই।
তিনশো বছরের পুরোনো শহর কলকাতা বয়ে নিয়ে চলেছে আরেক প্রায় ১৭০ বছরের পুরোনো ইতিহাস। মল্লিক ঘাট ফুলের বাজার হকারস কমিটি-র (Mullick Ghat Flower Market Hawkers Committee) তত্ত্বাবধানে রমরমিয়ে চলছে মল্লিক ঘাট ফুলের বাজার (Mullick Ghat Flower Market)। ১৮৫৫ সালে এই মল্লিক ঘাট স্থাপন করেন রামমোহন মল্লিক, যিনি ছিলেন নয়ন চাঁদের ছেলে। এই ঘাটের আরেক নাম ছিল ছোটেলাল ঘাট। হাওড়া যাবার পথে রবীন্দ্র সেতু-র ঠিক নিচে বসে এই ফুলের বাজার, যা কিনা এশিয়ার সবচেয়ে বড়ো ও পুরোনো ফ্যলের পাইকারি বাজার।
আরও পড়ুন: এক যে আছে হাওড়া ব্রিজ
পুজো মণ্ডপ থেকে বিয়েবাড়ি, অনুষ্ঠানের বাড়ি, হোটেল রিসর্ট সাজানোর জন্য কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকায় এখান থেকেই ফুল কেনা হয়। মল্লিক ঘাটের ফুলের বাজার ঘুরে দেখার আদর্শ সময় হল শীতের সকাল। মিলবে কুয়াশা মাখা গঙ্গার ধারে সূর্যোদয় দেখার সুবর্ণ সুযোগ। ঘাটের আরেক পাশেই রয়েছে কুস্তির আখড়া।
এখানে কমবেশি সকলের হাতেই ফুল। ভোরের কুয়াশায় পায়রা ওড়া, সরু থেকে অতি সরু গঙ্গার ঘাটের দিকে চলে যাওয়া রাস্তা, সাম্প্রদায়িক বেড়াজাল বুঝি ভেঙে যায় ফুলের কাছে এসে। সে ফুলে গন্ধ থাক, না থাক, তার কাছে এসে যেন সহজ হয়ে আসে মন। এশিয়ার বৃহত্তম ফুলের বাজার আর অন্যদিকে বয়ে যাওয়া মল্লিক ঘাটের মনোরম গঙ্গা আজও ফিকে হয়ে আসা দিনগুলোকে শোনায় বর্ণময় প্রেম। সে প্রেমের দামদর হয় নাকি!
ভাষ্যপাঠ, সম্পাদনা, পরিকল্পনা: সুমন সাধু
চিত্রগ্রহণ: সুমন সাধু, মৌনী মণ্ডল
গানের কণ্ঠ: মৈত্রেয়ী ব্যানার্জি