No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    মাতৃভাষা দিবসেই চলে গেলেন অশ্রুকুমার সিকদার

    মাতৃভাষা দিবসেই চলে গেলেন অশ্রুকুমার সিকদার

    Story image

    আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সকালেই চলে গেলেন অশ্রুকুমার সিকদার। বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিশিষ্ট অধ্যাপক, প্রাবন্ধিক এবং সাহিত্য সমালোচক অশ্রুকুমারের কাছে নানা কারণেই ঋণী তাঁর মাতৃভাষা। রবীন্দ্রসাহিত্য ছাড়াও দেশভাগ, দুই বাংলার কবিতা ও সাহিত্য ছিল তাঁর প্রিয় চর্চার বিষয়। ‘ভাঙা বাংলা ও বাংলা সাহিত্য’-র রচয়িতা বাঙালি পাঠকদের উপহার দিয়েছেন ‘চোখের দুটি তারা, দুই বাংলার কবিতা’-র মতো অসামান্য বই। আবহমান ও অখণ্ড বাংলা সাহিত্যকে পাঠ করার এক নতুন ভাষা খুঁজছিলেন যেন অশ্রুকুমার। তারই ফসল ‘হাজার বছরের বাংলা কবিতা’ এবং ‘আধুনিক কবিতার দিগ্‌বলয়’।

    অশ্রুকুমার সিকদারের চিন্তাস্রোতের আলো পেয়েছে বাংলা সাহিত্যের অন্যান্য নানা কৌণিক বিন্দুই। ‘পুরোনো পথের রেখা’, ‘রবীন্দ্রনাট্যে রূপান্তর ও ঐক্য’, ‘বাক্যের সৃষ্টি’, ‘নবীন যদুর বংশ’-র মতো বইয়েরও জন্মদাতা তিনি। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যৌথভাবে সম্পাদনা করেছেন ‘নির্বাচিত এক্ষণ, প্রবন্ধ সংকলন’। লিখেছেন ‘বাংলাভাষা কিছু ভাবনা’-র মতো বই। যেখানে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন, মান্য প্রামাণিক বাংলা অধিকাংশ বাঙালির কাছেই “দ্বিতীয় ভাষা, শিখে-নেওয়া ভাষা’। মান্য-প্রামাণিক বাংলার ভিতরেও বহমান আধিপত্য-ক্ষমতার যুগলবন্দির কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন সামান্য কথাতেই।

    আদিভিটে অধুনা বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার মালিয়াটে। যদিও বাবা চাকরিসূত্রে দার্জিলিং-নিবাসী ছিলেন বলে পাহাড়েই জন্ম হয়েছিল অশ্রুকুমারের। চল্লিশ বছরের দীর্ঘ অধ্যাপনা জীবন। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় অধ্যাপক ছিলেন। ছাত্রজীবন এবং শিক্ষকতাজীবনে তাঁর সবচাইতে প্রিয় জায়গা ছিল পাঠাগার। নিজেই নানা জায়গায় বলেছেন সে কথা। বলতেন ‘চোখদুটো আমার অ্যাসেট’। অথচ, গ্লুকোমা তাঁর দৃষ্টিশক্তি প্রায় সম্পূর্ণ কেড়ে নিয়েছিল। পাঠহীন শেষজীবনে তাই নিঃসঙ্গতাই ঘন হয়ে উঠেছিল। 

    সমস্ত নিঃসঙ্গতা মুছে মাতৃভাষা দিবসেই চলে গেলেন অশ্রুকুমার।

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @