যে ছবি ছায়ার, নেশার কিংবা উল্লাসের

ছায়ার মতো খেলা করে ছবি। মহলে আলো আসে, আলো যায়। পড়ে থাকে একাকী এক প্রজন্মের হাতছানি। এমনই কিছু ছায়ার কাছে ঋণী তরুণ আলোকচিত্রী অনিঙ্ক আচার্য। খুব গোপন অথবা নিঃসঙ্গ চারদেওয়ালের মধ্যে যে কত কথা, অনিঙ্ক তা জানে। সেসবের হিসাবে ক্যামেরা কাঁধে রাস্তা পার হয় আর উল্লাসময় জীবনে খুঁজে নেয় হাঁটার রসদ। এভাবে ফ্রেমে আসে ছবি, ছবিতে ছায়ার জন্ম হয়। বঙ্গদর্শনে আজকের ছবিমহল জুড়ে রইল ছায়ার ছবি, নেশার ছবি, উল্লাসেরও। উত্তরবঙ্গের বালুরঘাটে বাস অনিঙ্কর। ছোটো থেকেই ফটোগ্রাফির প্রতি নেশা ক্রমশ বেড়ে উঠেছে। তাঁর মতে এইসব ছবি একটা স্বচ্ছ আয়না, ঠিক যেন উত্তরবঙ্গের আত্মার আত্মীয়।
বিকেলবেলা গড়িয়ে গেলে অনেক মেঘের ভিড়
কয়েক ফলা দীর্ঘতম সূর্যকিরণ বুকে
মনে পড়ে, জলের মতন ঘুরে অবিরল
পেয়েছিলাম জামের ছায়ার নিচে তোমার জল
পৃথিবীর সব ঘুঘু ডাকিতেছে হিজলের বনে;
পৃথিবীর সব রূপ লেগে আছে ঘাসে
সে কত শতাব্দী আগে তাহাদের করুন শঙ্খের মতো স্তন
তাদের হলুদ শাড়ি- ক্ষীর দেহ- তাহাদের অপরূপ মন
এই জল ভালো লাগে; বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে
ধুয়েছে আমার দেহ — বুলায়ে দিয়েছে চুল — চোখের উপরে তার শান্ত
চেয়ে দেখি মাছরাঙা সূর্য নিভে গেছে;
অন্য প্রেমিককে পাবে অন্য এক ভোরে
আজকে তুমি মৃত্যুবিহীন
মুক্ত সীমারেখা।
ঋণ- জীবনানন্দ দাশ