গোলাপি টেস্ট নিয়ে কলকাতা পুলিশের অসামান্য অ্যানিমেশন, ভাইরাল সঙ্গেসঙ্গেই

বোলারের হাত থেকে বেরিয়ে আসছে গোলাপি বল। তারপর সেই বলের রঙেই গোলাপি হয়ে উঠছে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল থেকে হাওড়া ব্রিজ। ‘বার্ডস আই ভিউ’ থেকে দেখা যাচ্ছে নিচে হাতে আঁকা ইডেন গার্ডেন্স। গোলাপি বল শাঁ করে নেমে এল পিচে। সঙ্গে সঙ্গে রঙ বদলে গেল ইডেনেরও। ‘কলকাতা আজ গোলাপি’। ইডেনের ঐতিহাসিক গোলাপি বলের টেস্টকে কেন্দ্র করে ১০ সেকেন্ডের এই চমক লাগানো অ্যানিমেশনই এখন ভাইরাল। সৌজন্যে কলকাতা পুলিশ।
ইডেনের গোলাপি বলের টেস্ট নিয়ে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে কলকাতায়। গোলাপি রঙে সেজেছে গোটা শহর। সেই গোলাপি-জোয়ারে গা ভাসিয়েছে কলকাতা পুলিশও। এই ছোট্ট অথচ ব্যতিক্রমী অ্যানিমেশন ছাড়াও আরো একটি ক্রিয়েটিভ পোস্ট করা হয়েছে কলকাতা পুলিশের ফেসবুক পেজে। সেখানে আলোয় ভাসা ইডেনের মাঝখানে একটি গোলাপি বল। ক্যাপশন- ‘রঙ দিয়ে যায় চেনা’। সত্যিই তাই। কলকাতাই এখন ভারতের নতুন ‘গোলাপি শহর’। রঙ দিয়েই চেনা যাচ্ছে কলকাতার মেজাজ।
বেশ কিছুদিন ধরেই মিম ও ক্রিয়েটিভের মাধ্যমে নানা বিষয়ে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে কলকাতা পুলিশ। কখনো গাড়ির স্টিয়ারিং-এ শিং জুড়ে দিয়ে লেখা ‘হর্ন থাকলেই গুঁতোতে নেই’, কখনো হেলমেট পরার প্রচারে ক্যাপশন ‘মুন্ডু গেলে খাবটা কী’। দুর্গাপুজোর সময়ে শহর জুড়ে কলকাতা পুলিশের প্রচারও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ট্রাফিক নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে ব্যবহার করা হয়েছিল দেবতাদের বাহনদের, সঙ্গে জুড়েছিল ছড়া। শুধু সচেতন করাই নয়, ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জনসংযোগের সামান্য সুযোগও ছাড়ে না কলকাতা পুলিশ। ফুটবল ও ক্রিকেট বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে বিশেষ বিশেষ ইভেন্ট ও দিনেও কলকাতা পুলিশের বার্তার জন্য এখন অপেক্ষা করে থাকেন সাধারণ মানুষ। কলকাতা পুলিশের ফেসবুজ পেজ এমনিতেই বিপুল জনপ্রিয়। তারই মধ্যে এইসব ক্রিয়েটিভ, পোস্ট, অ্যানিমেশনকে ঘিরে নেটিজেনদের উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো। অধিকাংশ পোস্ট ফেসবুকে পড়তে না পড়তেই ভাইরাল।
ইডেনে গোলাপি বলের টেস্ট ঘিরে একট অ্যানিমেশন এবং ক্রিয়েটিভও একইভাবে ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। অ্যানিমেশনকে যোগ্য সঙ্গত করেছে খমগের ব্যবহার। কলকাতা পুলিশের পোস্ট মানেই এখন ছকভাঙা কিছু। বুদ্ধিদীপ্ত ক্যাপশন, ভাবনার পাশাপাশি নজর টানে বক্তব্যের পরিমিতিবোধও। কিছুক্ষণ আগে কলকাতা পুলিশের পোস্ট করা শেষ ক্রিয়েটিভটার কথাই ধরা যাক। সেখানে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান মহম্মদ মিঠুনের হেলমেটে বল লাগার ছবি, সঙ্গে ক্যাপিশন—‘রাখে হেলমেট, মারে কে!’। এই ‘হেলমেট’ যে শুধুই ক্রিকেট মাঠের নয়, বলাই বাহুল্য। ট্রেন্ডিং নানা ঘটনাকে নিয়েই এমন বার্তা দেওয়ার জন্য কুর্নিশ অবশ্যই প্রাপ্য কলকাতা পুলিশের।