No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    বিষাদের ব্লো হট

    বিষাদের ব্লো হট

    Story image

    এ গল্প বাবু শ্রী অমিয় চক্রবর্তীর। থিয়েটার করেন। আর পারেন জুয়া খেলতে। নিজের জীবন সম্মান নিরাপত্তা নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার মত বিপজ্জনক জুয়া।জুয়ার চোরা ঘূর্ণিপাকের মধ্যে তলিয়ে যেতে ভেসে ওঠেন , বিশ্বাস করেন ঢেউএর ফেনায় আঁকড়ে ধরা খড়কুটোই শিল্প। নিজেকে ক্ষয় না করে যে চিন্তা তার কোনোই দাম নেই।

    এ গল্প থিয়েটারের ভেতর যে থিয়েটার, তার ভিতর যে থিয়েটার, তার ভিতর... যখন আর বোঝা যায় না 'আপনি থিয়েটারকে তৈরি করছেন না থিয়েটার আপনাকে তৈরি করছে...  সেই গল্প।

    গল্পটা সত্যমূলক। সাতের  দশকের গোড়ায় কলকাতা দেখে নাটক বারবধূ। জনপ্রিয়তার নিরিখে চূড়ান্ত সফল এ নাটকের অন্তর্লীন বিষাদময়তার গল্প এটি। অমিয়’র সমস্ত বোধ আচ্ছন্ন করে দেওয়ার গল্প, সমস্ত বোধকে খেয়ে ফেলা বিজ্ঞাপন ‘ভালোবাসার ব্লো হট নাটক’র গল্প।

    কলকাতার গ্রুপ থিয়েটারে প্রথম আর্থার মিলার করা অসীম চক্রবর্তী  আউটকাস্ট হয়ে গেলেন বারবধূ করার জন্য।  তিনি খারাপ থিয়েটার করেন কারণ তাঁর থিয়েটার পপুলার। কেউ মনে রাখবার চেষ্টা করলো না যে এই মানুষটাই মোহিত চট্টোপাধ্যায় এর আবসার্ড থিয়েটার মঞ্চস্থ করেন।  সোমনাথ এর অবচেতনার নীল ঘোড়াটির মত অসীম না কি অমিয়র স্বপ্ন প্রেম স্পন্দন ও তৎকালের দর্শকের কাছে রয়ে যায় নন কমিউনিকেটিভ। যেমন নন কমিউনিকেটিভ রয়ে যায় লতার কান্না, না কি কমিউনিকেটেড হয় বছরের পর বছর হাজার হাজার দর্শকের কাছে। আর পৌঁছয় সেই সব মানুষের কাছে যারা ঈর্ষা কাতর, কেচ্ছা পরায়ণ।  তাই ঘটতে থাকে সাবোতাজ,আসতে থাকে মন্ত্রী র চিঠি। নাটকটাকে অশ্লীল আর নির্মাতা কে কুরুচিকর দাগিয়ে দিতে চায় যারা, তারা নাট্যবন্ধু না কি এর পেছনে আছে থিয়েটার ওয়ালাদের আজন্ম লালিত হিংসা। পপুলার মানে নিম্নরুচির। সমসময়ে কিন্তু ক্যাবারে নাচ সম্বলিত থিয়েটার হচ্ছে, হচ্ছে নান্দীকারের ভালোমানুষও। বারবধূ’র লতা এক বেশ্যা, ভালোমানুষের শান্তাও তাই।  কিন্তু অভিযোগ হল বারবধূ সেক্স রিলেশন এর গল্প,এতে নেই সোশ্যাল কনটেন্ট। আরে অমিয়র থিয়েটার জমে গেছে, অপরাধী তো সে  হবেই। ‘হায় বাঙালী বুদ্ধিজীবী, ঈর্ষা-র একটা তাত্ত্বিক মোড়ক দিতেই হবে!’ ‘ ব্রা দেখা গেল বলে লতা খালি শরীর আর সেই শরীর দেখতে বাঙালী বাবুদের ভিড়।  একা একা এসে দেখে যাচ্ছে আর বাড়ি ফিরে ছেলেকে বলছে  ‘আর যেখানে যাও না রে ভাই সপ্ত সাগর পার / রাজাবাজারে প্রতাপ মঞ্চ, যেও না খবরদার'। সংস্কৃতি মন্ত্রক সংস্কৃতি ও সমাজের স্বার্থে এ নাটক বন্ধের অনুরোধকারী। দর্শক এর রুচি  তৈরির দায়িত্ব তবে এবার সরকার নিক। বিশ লক্ষ দর্শক তবে কুরুচি র সমর্থক!

    বাংলা থিয়েটারে একটা সগৌরব সন্ধি লগ্ন শোনা যাচ্ছে যেন। তৎকালের নাট্যব্যক্তিত্ব অসীম চক্রবর্তী’র কথা বলতে পাইকপাড়া ইন্দ্ররঙ্গ ব্রাত্য বসুর পরিচালনায় বেছে নিয়েছেন এক অন্য প্রযোজনা আঙ্গিক।  উত্তর কলকাতার মোহিত মৈত্র মঞ্চে নিয়মিত অভিনয়। এ হল ও হল ঘুরে  ঘুরে হলের ডেট পাবার প্রতীক্ষায় কত নাটক একা একা মরে যায় কে  তার খবর রাখে।  পাশাপাশি ভ্রাম্যমানতা থিয়েটারের মানের অবনতি ও ঘটায়, শিকড় গজায় না ঠিকমত এমন কথাও পণ্ডিতরা বলে থাকেন। সেজন্যই অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় রঙ্গনা ভাড়া নিয়ে, উৎপল দত্ত মিনার্ভা য়, নিয়মিত অভিনয় শুরু করেছিলেন। ভেবেছিলেন থিয়েটারকে পেশাদারি করার কথা। থিয়েটারকে পেশাদারি করতে গেলে তা পেশাদারি ভাবেই করতে হবে।নিয়মিত অভিনয় এর সুযোগ ছাড়া এমনটা তো সম্ভব নয়। অমিয়  অরফে অসীম  ভেবেছিলেন মরার আগে একটা জিনিস বুঝিয়ে দিয়ে যেতে....  যেটা তার নেশার জিনিস সেটাই তার পেশা র থিয়েটার হয়ে উঠতে পারে।  এমনকি এও ভেবেছিলেন সম্মিলিত ভাবে একটা সংগঠনের কথা, ব্যবসার কথা। হ্যাঁ হ্যাঁ ব্যবসা!  না হলে যে ছেলেটা টর্চ  হাতে সিট দেখায় সে তো খেতে পাবে না। অমিয় ভাবতে পেরেছিল থিয়েটার এর সে সম্ভবনার কথা,পাবলিক  থিয়েটার এর অস্তগামী যুগে নতুন করে। সেই মানুষটিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা থিয়েটার এর এমন নিয়মিত  অভিনয় বর্তমান বাংলা থিয়েটার এর শুভবোধই সূচিত করে।

    কিন্তু অসীম চক্রবর্তী র পপুলারিটিই হয়েছিল তাঁর গলার ফাঁস। তাই ভালো থিয়েটার না কি পপুলার থিয়েটার, এমন কি ভালো হলে তা পপুলার হতে পারে না র দ্বন্দ্বে বিষাক্ত ও বিষাদময় হতে থাকল তাঁর নির্মাণ ও সৃষ্টি। সঙ্গে জর্জরিত তাঁর জীবন ও জীবন বোধ। বারবার  অন্যরকম ভঙ্গি নিয়ে থিয়েটার করতে গিয়ে, বারবার ব্যর্থ হতে হতে, আবার চেষ্টা করতে করতে মরিয়া হয়ে নামান ‘বারবধূ’। লেগে যায় নাটকটা। মঞ্চ কম্পিটিশন কী তা বুঝতে পারেন অমিয়। তিনি ভালো অভিনেতা।  রজনী কে পাশে পেয়ে আবার ধার করার সাহস পেয়ে গেলেন।  বঙ্গ রঙ্গ মঞ্চ পেলো নতুন নাটক, নতুন কেচ্ছাও।  শ্লীলতাঅশ্লীলতা-র অনেক টানাপোড়ন দেখেছে বাংলা সংস্কৃতি জগৎ, আবার দেখল। কিছু এগিয়ে থাকা মানুষের প্রশংসা সমর্থন রইল বটে,পাশাপাশি রইল লড়াইও।  কৃত্তিবাস পত্রিকার পক্ষে শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় নিলেন সাক্ষাৎকার।  লিখলেন উপন্যাস অদ্য শেষ রজনী। সে উপন্যাসের নাট্যরূপ লিখে দিলেন উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। এ নির্মাণ এ শুধু ইতিহাস নয়,সময়কাল নয়, থিয়েটার নয়, নাট্যজগত ঘিরে থাকা মানুষগুলির জীবন বোধ মূর্ত হল। অমিয় বিষ্ণুবাবু কে বলেছে আপনার কথায় বেশ ফুলঝুরি আছে.....  গোটা নাটক জুড়ে সংলাপের ফুলঝুরি ঝরিয়েছেন উজ্জ্বলবাবু। নাটকের প্রাণ যে সংলাপ তার সৃজনে নিজের সৃষ্টিকেই ছাপিয়ে গেছেন বারবার। এ নাট্যে আপাত জনমনোরঞ্জনের উপাদান থাকলেও এর প্রকৃত  বিষাদময়তা সত্যি হয়ে উঠেছে তাঁর লেখনীতে।  নিজের সৃষ্টির কাছে ভয় দেখানো কিছু নয় এমন কথা রবীন্দ্রনাথ এর গল্পে পড়া গিয়েছিল, এখানে কেমন যেন হিম হয়ে আসতে থাকে আবহ...... অমিয় বোধহয় স্রষ্টার হাত ছাড়িয়ে যেতে চায়। যেমন নিজের নির্মিত চরিত্র কে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না অমিয় নিজেও।  রিহার্সালে সে সব স্কিল দেখায় না, মঞ্চে সে সর্ববিধ অঘটন  ঘটাতে  পারে, পারেই।  বিষ্ণুবাবু চিনে ফেলেন  ঐ মুখ... বিষণ্ণ,উদাস,বাঁকানো নাক ... স্বয়ং মৃত্যু। এ যে কেবল পারফরমেন্স নয়, এ যে এক অবিরত রক্তক্ষরণ তা টের পাওয়া গেল। জটিল সম্পর্কের আবর্ত, সহঅভিনেত্রী রজনীর জন্য পরের পর হাউস ফুল আবার স্ত্রী মালার নিরন্তর সহমর্মিতা   কোনটা বেশি আপন অমিয়? না কি সংসারে যার যা  ভূমিকা তাকে তা পালন করতে হয়ই। এই ক্রমাগত শিফ্টিং এ ক্লান্ত কি অমিয়? থিয়েটার তাকে কি দেবে শেষ পর্যন্ত?  অমরতা?  বিষাদের ব্লো হট অদ্য শেষ রজনী!  ব্রাত্য বসুর পরিচালনায় ছু্ঁয়ে যাওয়া ইতিহাস আর জীবন।

    মঞ্চ জোড়া যে ট্রাম, সেই ট্রাম লাইনের মতই কাটাকুটি চরিত্র জুড়ে ..  আঁকাবাঁকা চলন....  অমিয়র মুখে, বাঁকানো নাকে মৃত্যু র আলোছায়া।  মালার পাশে শুয়ে রজনীকে খোঁজ, আবার রজনী’র দিকে তাকিয়ে মালার ডাক শুনতে পাওয়ার ব্যাকুলতা  সবটা সূক্ষ্ম সুতোয় গাঁথবার জন্য এসেছেন বিষ্ণুবাবু। নাট্যসমালোচক।  অনেক দিন দেখছেন অমিয়কে। অমিয় সকল উত্থান পতনের সাক্ষী, সহৃদয় সঙ্গীও।  সহজেই বলতে পারেন ‘অভিনয় করতে করতে অন্যমনস্ক হয়ে যাবেন না তো!’ বিষ্ণুবাবু কি সত্যি কোনও মানুষ  না কি অমিয়র অনেক নির্মাণ এর মত আরও এক নির্মাণ। সত্রাজিৎ সরকার বিশেষ ভঙ্গীময় অভিনয় দ্বারা বিষ্ণুবাবুর চরিত্র যে ভাবে তৈরি করলেন তা নিশ্চিত দীর্ঘ দিন মনে রাখার।

    বড় ঘরের মেয়ে মালা-  অমিয়কে ভালোবেসে যে দৈন্য স্বীকার করেছে তা তীব্র অভিমানে আছড়ে পড়ে মধ্যরাতে রজনীকে নিয়ে অমিয় আদিখ্যেতায়। এটা ত্রিকোণ প্রেমের গল্প নয় তবু অঙ্কিতা মাঝির মালা ছুঁয়ে যায় সম্পর্কের আনাচ কানাচ। মালা যেমন করে বুঝে নিয়েছে অমিয় কে, সংসারে নিজের ভূমিকা কে, তেমনি অঙ্কিতা নিচুতারে নিজের অভিনয় বেঁধে রেখে উজ্জ্বল আলোর মাঝে কি করে নিজের জোর বজায় রাখতে হয় দেখিয়ে দিলেন।

    এ নাটক তাঁর নামে, তিনি রজনী। রজনী দাসী পাল্টে হয়ে যান রজনী দেবী। চিনে নিয়েছেন অমিয়’র প্রতিভা।  এ নাট্যে দেবযানী চট্টোপাধ্যায় এর রজনী পরিশ্রমের চিহ্ন যুক্ত। বাংলা থিয়েটার যতদিন বাঁচবে অদ্য শেষ রজনী’র অনির্বাণ এর অভিনয় রয়ে যাবে ততদিন। নাটকটির বিন্যাস সরল রৈখিক নয়.... অতীত থেকে বর্তমান ছুঁয়ে মাঝে মাঝেই কল্পলোকে উড়ান দেয় এ নাট্য। মাঝে মাঝে মঞ্চ মায়া ভেঙ্গে দেবার ঝোঁক। কখনও ক্যাবারে, কখনও বেহালাবাদক আবার কখনও পথ চলতি ট্রাম এ চাপা মানুষের টিপিক্যাল মধ্যবিত্ত কথোপকথন কাহিনী কে এগিয়ে দেয়। কেন্দ্র আলোকিত অনির্বাণ দীপ্তি তে। সে অমিয়, সে অমিয় অভিনীত চরিত্রও। জনৈকের মৃত্যু -- ডেথ অফ আ সেলসম্যান নাটকের আত্তীকৃত রূপ টি একদিন মুক্তাঙ্গনের ফুটপাথে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অমিয় শশধর। হঠাৎ ছুঁড়ে দেওয়া একটা ব্রিফকেস লুফে নিয়ে অমিয় হয়ে যায় শশধর। পলক ফেলার তর সয় না.... একটা মানুষের রূপান্তর ঘটে যায়। একবার নয় বারবার। প্রেম দাম্পত্য অভাব অসহায়তা রাগ এবং বিশ্লেষণে অপার এক জগৎ নির্মিত হয়; নির্মিত হয় আবার ভাঙ্গে।

    অনির্বাণ এর ক্রমাগত ভালো কাজ দেখার অভ্যাস দর্শকদের আছে। প্রতিবারই মনে হয় এটাই বুঝি সেরা, এ চরিত্রই যথাযথ তাঁর জন্য। কিন্তু একটাই নাট্য জুড়ে একের পর এক  চরিত্রয় এমন অনায়াস গতায়াত.... চাহনি থেকে চলাফেরায়... অনির্বাণের  প্রতিভা নিশ্চিত করে। রজনীর ঠোঁটে অমিয় তিন যুগ এর থিয়েটার এর স্বাদ পেতে চেয়েছিল,  অদ্য শেষ রজনীর অনির্বাণ দর্শনে নাট্যযুগান্তর ছোঁয়া যাবেই।

    এ কাহিনী র প্রেক্ষাপট কলকাতা, পুরনো কলকাতা। কলকাতার আইকন তথা তৎকালের উত্তর কলকাতার মন মানসিকতার শম্বুক সর্পিল গতি, কাছাকাছি থাকা পেশাদারি মঞ্চ গুলিকে  ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকা একটি ট্রাম মঞ্চ জুড়ে। এটি অমিয়র মেকআপ রুম, এটিই মালা অমিয়র সংসার, এটিই পাল্টে হয়ে যায় বারবধূ’র  অভিনয় মঞ্চ। দেবাশিস এর মেধাবী কাজ চোখে পড়েছে আগেও এবার চমৎকারিত্ব মিলল। এমন অসামান্য মঞ্চ আলোক প্রক্ষেপণের অসামান্যতায় তো ঋদ্ধ হবেই। ধারাবাহিক ভালো কাজের খ্যাতি আছে সুদীপ সান্যালের।  ভালো লেগেছে সঙ্গীতা পাল এর পোশাক পরিকল্পন।  কাজটা কঠিন ছিল কারণ ছুঁতে হয়েছে সময়ের অনেক গুলি বাঁক।  আর যেখানে বারে বারে রুচি এবং শ্লীলতার প্রশ্ন উঠছে সেখানে বাহ্যিক পোশাকের গুরুত্ব  বেড়ে যায় অনেক খানি। সঙ্গীতের ভালো সঙ্গত দিশারী চক্রবর্তীর।

    সব গল্পই জীবনের গল্প। জীবনটা কি সামগ্রিক একটা পারফরমেন্স নয়। সেখানে ভালোবাসার সত্যি মিথ্যে নেই, নেই জীবন মৃত্যুর ও স্থিরতা, এক ভূমিকা থেকে আর এক ভূমিকায় ঢুকে পড়ার নিয়ত নিয়তি আসলে আমাদের অনিবার্য। একটা সাকসেসফুল পারফরমেন্স এর অপেক্ষা ছাড়া  আমরা আর কি-ই বা করতে পারি...,  কি-ই বা করতে পারি অন্য চরিত্রে ঢুকে পড়ে একবার বেহালাবাদক কে ডেকে একটা বিষাদের সুর বাজাতে বলা ছাড়া!  ‘বেহালা, এই বেহালা!’

     নাট্যমুখপত্র - পত্রিকা থেকে পুনঃমুদ্রিত।

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @