No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    আলিপুর চিড়িয়াখানার পশু-পাখি দত্তক নিতে পারেন আপনিও

    আলিপুর চিড়িয়াখানার পশু-পাখি দত্তক নিতে পারেন আপনিও

    Story image

    চ্ছে করলে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন পশু-পাখিদের অভিভাবক, আলিপুর চিড়িয়াখানা এমনই এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও প্রায় এক যুগ হতে চললো শুরু হয়েছে পশু-পাখি দত্তক নেওয়ার কর্মসূচি। ক্রমে ক্রমে তা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রচুর মানুষ পশু-পাখি দত্তক নিচ্ছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া মিলছে।

    ২০১৩ সাল থেকে পশু-পাখি দত্তকের কর্মসূচি শুরু হয়েছে আলিপুর চিড়িয়াখানায়। জু অথোরিটির আওতায় রাজ্যে বারোটি জু (zoo) রয়েছে। তার মধ্যে আলিপুর চিড়িয়াখানাতেই দত্তক নেওয়ার হার সর্বাধিক। আলিপুর চিড়িয়াখানা ছাড়াও সুরুলিয়া মিনি জু (পুরুলিয়া), পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্ক (দার্জিলিং), বেঙ্গল সাফারি (শিলিগুড়ি), বর্ধমান জুলজিক্যাল পার্ক থেকেও পশু-পাখি দত্তক নেওয়া যায়। সম্প্রতি নিউটাউনের হরিণালয়-এ দত্তক কর্মসূচি চালু হবে বলেও জানালেন তাঁরা। 

    পশু-পাখি দত্তক কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হল, বন্যপ্রাণীদের সঙ্গে মানুষের সুসম্পর্ক গড়ে তোলা। তদুপরি বন্যপ্রাণ সম্পর্কে আমজনতার মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই কর্মসূচি। বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীদের বাঁচিয়ে রাখতেই আরও বেশি করে এর প্রচলন করা হয়েছে। যিনি দত্তক নিচ্ছেন, তাঁকে সংশ্লিষ্ট প্রাণীর খরচ বাবদ নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে দিতে হয়, এর ফলে চিড়িয়াখানার কিছু আয়ও হয়। দত্তক নেওয়া টাকা চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ খাদ্য, ওষুধ এবং প্রাণীদের রক্ষণাবেক্ষণ এবং চিড়িয়াখানার জায়গার জন্য ব্যয় করে। 

     

    চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ তরফে জানা গিয়েছে, দত্তকের ক্ষেত্রে দু’ধরনের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বাৎসরিক ভিত্তিতে টাকা দিয়ে দত্তক নিতে হয়। এক একটি পশু-পাখির ক্ষেত্রে খরচ আলাদা আলাদা হয়। সর্বনিম্ন এক হাজার থেকে সর্বোচ্চ দু’লক্ষ টাকা। এছাড়াও মাসিক ভিত্তিতে টাকা দেওয়ার উপায়ও রয়েছে, সর্বোচ্চ কুড়ি হাজার থেকে সর্বনিম্ন একশো টাকা পর্যন্ত দেওয়া যায়। মাসিক ব্যবস্থাই সর্বাধিক জনপ্রিয়। নির্দিষ্ট সময় পরপর চুক্তি পুনর্নবীকরণ করতে হয়। দত্তক নেওয়ার জন্য আগ্রহীদের অনলাইনে আবেদন করতে হয়। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি, বিভিন্ন সংস্থা, বহুজাতিক সংস্থা (যেমন ইন্ডিয়ান অয়েল, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ইত্যাদি) এবং নানান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পশু-পাখি দত্তক নিয়ে থাকে। সমাজের নানান ক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠিত, বিখ্যাত মানুষরাও দত্তক নেন বলে জানা গিয়েছে। দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানগত কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। যেমন- আলিপুর চিড়িয়াখানার ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া তথ্য অনুয়ায়ী, বর্ধমান নিবাসী জনৈক সন্দীপন সরকার দার্জিলিং জু থেকে দত্তক নিয়েছেন। শিলিগুড়ির একজন আইনজীবী আলিপুর চিড়িয়াখানার চারটি প্রাণী দত্তক নিয়েছেন। রাজ্যজুড়ে এরকম অনেকেই আছেন, যাঁরা চিড়িয়াখানার পশুপাখি দত্তক নিয়েছেন। 

    পশু-পাখি দত্তক কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হল, বন্যপ্রাণীদের সঙ্গে মানুষের সুসম্পর্ক গড়ে তোলা। তদুপরি বন্যপ্রাণ সম্পর্কে আমজনতার মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই কর্মসূচি। বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীদের বাঁচিয়ে রাখতেই আরও বেশি করে এর প্রচলন করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী ‘নান্দীকার’-এর সোহিনী সেনগুপ্তও বছর তিনেক আগে একটি শিম্পাঞ্জী দত্তক নেন, যাকে ভালোবেসে ‘বাবু’ নাম দিয়েছেন। সন্তান নয় সোহিনী বাবু’কে নিজের ভাইয়ের জায়গা দিয়েছেন। বাবুর সঙ্গে ভাইফোঁটা উদযাপনও করেন। এছাড়া বাবু’র জন্মদিন পালন করতে প্রতি বছরই চিড়িয়াখানায় যান সোহিনী, তাঁর বন্ধু-পরিজন-সহকর্মীরা। সোহিনী পশুপ্রেমী বললেও কম বলা হয়। বঙ্গদর্শন.কম-এর এক সাক্ষৎকারে তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন, “আমি প্রাণীদের সঙ্গে বেশি ‘নর্মাল’, বাকি সবার সামনে অভিনয় করি”। 

    তবে, অনেকে দত্তক নেওয়ার এই বিষয়টি সম্বন্ধে জানলেও, অনেক ব্যাপারই তাঁদের কাছে পরিষ্কার নয়। যেমন,  চিড়িয়াখানার পশু-পাখিকে দত্তক নিয়ে অবশ্য বাড়িতে নিয়ে যাওয়া যায় না। আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বঙ্গদর্শন.কম-কে তাঁরাই জানালেন, “অনেকেই দত্তক নিতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ফোন করে বলেন আমার বাড়িতে এতো জায়গা রয়েছে আমি বাঘ বা সিংহ দত্তক নিতে চাই। তখন তাঁদের গোটা প্রক্রিয়া সম্পর্কে বোঝাতে হয়। দত্তক নেওয়া প্রাণী চিড়িয়াখানাতেই থাকে। দত্তক নেওয়া পশু-পাখির এনক্লোজারের বাইরে অভিভাবককের ছবি-সহ নাম লেখা একটি বোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়। অভিভাবককে একটি সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। দত্তক সন্তানের সঙ্গে দেখা করার জন্য অভিভাবক-সহ চারজনকে বিনামূল্যে চিড়িয়াখানার এন্ট্রি পাস দেওয়া হয়। দত্তক সন্তানের জন্মদিন বা বিশেষ কোনও দিন উদযাপনের সুযোগও থাকে।”

    চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের লাগাতার প্রচারের জেরেই ক্রমশ পশু-পাখি দত্তক কর্মসূচি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। মানুষের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। এতে বন্যপ্রাণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, আলিপুর চিড়িয়াখানা ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ২০ লক্ষ টাকার বেশি আয় করেছে দত্তক কর্মসূচির মাধ্যমে। এই সময়ের মধ্যে মোট ৮৯ টি প্রাণীকে দত্তক নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে ১৮ টি প্রাণীকে মাসিক ভিত্তিতে এবং ৭১ টি প্রাণীকে বাৎসরিক ভিত্তিতে দত্তক নেওয়া হয়েছে। 

    পশু-পাখি দত্তক নেওয়ার ব্যাপারে বিশদে জানতে এখানে ক্লিক করুন।  

    ছবি সূত্রঃ kolkatazoo.in

    Tags:

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @