দোলাডাঙা নেচার ক্যাম্প

নির্জন একাকীত্বে, শহুরে কোলাহলের বাইরে প্রকৃতির মাঝে দু’রাত কাটাতে চলুন পুরুলিয়ার দোলাডাঙা নেচার ক্যাম্পে। খুব পরিচিত নয়। জঙ্গল, নদী, লালমাটি, সম্পূর্ণ গ্রাম্য পরিবেশ, খড় ছাওয়া মাটির বাড়ি, রাতে ক্যাম্প ফায়ারের সঙ্গে পছন্দের খাবার, বাউল গান, মাদলের তালে তালে আদিবাসী নৃত্য। সব মিলিয়ে মন ছুঁয়ে যাওয়া জঙ্গল অভিযান।
মুদিকোরা আদিবাসীদের জনা চল্লিশেক পরিবারের বাস এখানে। এদেরই প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে কংসাবতী নদীর তীরের এই ভ্রমণকেন্দ্র। বলতে গেলে আদিবাসীদের আর্থিক সংস্থানের নতুন পথ। তাই থাকার জন্য হোমস্টে, হোটেলের ব্যবস্থা আছে।
ফোনে আগেই যোগাযোগ করে নিতে পারেন। তাহলে ট্রেন বা বাসস্টপ থেকেই গাড়িতে হোটেলের নিয়ে আসার ব্যবস্থাও পেতে পারেন। গাড়ি থেকে নেমে আপনার চোখে পড়বে গাছের ফাঁকে কাঁসাই-এর বিস্তীর্ণ জলরাশি। মাটির দেওয়াল ও খড় ছাওয়া কুঁড়েঘরে ঠান্ডা শরবতে চুমুক দিতে দিতে কিছুটা পথের ক্লান্তি জিরিয়ে নিন।
আরও পড়ুন
ছুটিতে ঘুরে আসুন সামসিং
এরপর পায়ে পায়ে চলে আসুন নদীর ধারে। দড়ির দোলনা আপনারই জন্য অপেক্ষা করছে। শুয়ে পড়ুন, নদীর বুকে চোখ রাখুন, আপনার পথের ক্লান্তি কেটে যাবে। পুকুর নদী সবই আছে এখানে। সাঁতার কাটুন মনের আনন্দে।
কী খাবেন আর কী খাবেন না, তা আগে থেকেই বলে দিতে পারেন। এইবার একটু দিবানিদ্রা দিয়ে নিন। এখানকার কর্মচারীরা আপনাকে ঠিক ডেকে দেবে কংসাবতীর উপর সুন্দর সূর্যাস্ত দেখতে। নৌকা করে বেড়াতে যেতে পারেন পাশের দ্বীপগুলোতেও। অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করলে রাতে সুযোগ আছে জঙ্গল সাফারি করারও। তবে এসবই আলাদা অর্থের বিনিময়ে। তবে দরদাম করতেই পারেন।
সন্ধ্যায় পছন্দের খাবার নিয়ে বসে পড়ুন ক্যাম্পফায়ারের পাশে। আছে বাউল গানের ব্যবস্থা।
চলুন এবার একটু নদীর পার ধরে হেঁটে জঙ্গলে ঘুরে আসি । চাঁদের আলোয় নদী হাসছে। যদি জঙ্গলে যেতে মন না চায় তো নদীর ধরেই বসে থাকুন। বিরক্ত করার কেউ নেই চারপাশে। ভয়ও নেই তেমন কিছুর।
জঙ্গলেও হিংস্র জন্তুজানোয়ার প্রায় নেই বললেই চলে। মূলত খরগোশ, হরিণ, বুনো শুয়োর ছাড়া এই জঙ্গলে আর কোনও প্রাণী নেই। ভাগ্যে থাকলে দেখা পেতে পারেন।
কোথায় থাকবেন-
এখানকার আদিবাসী ঘরগুলি মিলে বেশ কিছু থাকার ব্যবস্থা করেছে। ব্যাগ প্যাক, বনলতা রিসোর্ট, দোলাডাঙা হোটেল ইত্যাদি। বনলতা রিসোর্ট-এ জন প্রতি ১৫০০ টাকা প্রতি দিন থাকা খাওয়া সমেত। সঙ্গে ক্যাম্প ফায়ার, বাউলগান ফ্রি, নদীতে ঘোরা ফ্রি। কিন্তু নৌকো নিয়ে দ্বীপে ঘোরা আর জঙ্গল সাফারি জন প্রতি ৫০০ টাকা। তবে এই বিষয়টা নিজে দরদাম করে ঠিক করুন। যোগযোগ - জয়দেব বারুই। ফোন – 9733989470
ব্যাগ প্যাক-এ থাকার জন্য যোগাযোগ করুন ৭৯৮০৫১৪৪৭৭/৯০৩৮৬৩৩২১১ – এই নম্বরে। গাড়িতে যেতে পারেন কলকাতা থেকে খড়গপুর। তারপর পরেশনাথ ফেরি ঘাট পার হয় দোলাডাঙা নেচার ক্যাম্প। দূরত্ব ২৭৫ কিমি। এছাড়া বাঁকুড়া মানবাজার হয়ে দোলাডাঙায় পৌঁছে যেতে পারেন। রেলপথে বাঁকুড়া স্টেশনে নেমে ফোন করুন। স্টেশন থেকে গাড়ির ব্যবস্থা করে দেবে ।