নিজের তোলা ছবিতে নিজেকেই হাতড়ে বেড়ান অঙ্কিতা পাল

ছবি তাঁর নেশায়। ভরাট করছে নতুন চোখের আহ্লাদ। নতুন চোখে পথ দেখা এভাবেই। কলকাতার তরুণ আলোকচিত্রী অঙ্কিতা পাল। খুব বেশিদিন ধরে যে ছবি তুলছেন, এমনটা নয়। কিন্তু একটা আলাদা চোখ বা একটা আলাদা ফ্রেম খুঁজে বার করার চেষ্টা করছেন। এই চেষ্টায় উত্তুরে হাওয়াকে সঙ্গ করে অলিগলি, পাড়া-বেপাড়া, পুরোনো ক্ষয়ে যাওয়া বাড়ি কিংবা রাজপথে হেঁটে চলেছেন। তারাই ওঁকে সন্ধান দেয় ফ্রেমের চোখ ঠিক কোথায় গিয়ে আটকে থাকা উচিত। ক্যামেরা নয়, মোবাইলই তাঁর একমাত্র সঙ্গী। ছবি তুলে যান অনবরত। আর সবটাই মোবাইলে। কলকাতা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এরকম অজস্র উপাদান, যা ক্যামেরাবন্দী করলেই কোথাও কোথাও নিজেকে খুঁজে পাওয়া যাবে ঠিক। নিজেকে এইভাবে নতুন করে চিনে নিতে চান শিল্পী। আজকের ছবিমহল বিভাগ জুড়ে রইল আলোকচিত্রী অঙ্কিতা পালের তোলা দশটি বাছাই করা ছবি। আসুন, গ্যালারি ঘুরে দেখি...
“যে দুঃখ পুরনো, তাকে কাছে এসে বসতে বলি আজ/ আমি বসে আছি, আছে ছায়া, তাঁর পাশে যদি দুঃখ এসে বসে...”
বাগবাজার, কলকাতা।
“মাটির কাছাকাছি থাকি বলেই, গায়ে এদের কেমন সোঁদা সোঁদা গন্ধ...”
বাগবাজার, কলকাতা।
“তবুও আমাকে তৈরি করতে হয় অমল প্রাসাদ/ নিজে থাকবো বলে নয়, মনে হয়, তোমরা বাস্তু পাবে।”
কলেজস্ট্রিট, কলকাতা।
“তার ধ্যান জানে, জানে না সংবাদ/ জানে না সংবাদপত্র, কার নাম?/ সে শুধু একাকী-/ একাকী গাছের মতো।”
কুমোরটুলি, কলকাতা।
“মুখখানি যেন তার মতো/ মুখখানি তবু কার মতো?”
কুমোরটুলি, কলকাতা।
“পাথর গড়িয়ে পড়ে, গাছ পড়ে বোধে/ মানুষ হারায়, টা কি মানুষেরই ক্রোধে?”
গড়িয়াহাট, কলকাতা।
“ধীর আলো ফুটে ওঠে ফুলের মতন/ টবে, বারান্দায়।/ কলকাতা-কলুষ মেখে ফুলগুলি তবু ফুটে ওঠে...”
হাতিবাগান, কলকাতা।
“ডাক দিলে কোলে নেয়, চিতা মাতৃমুখী.../ বাড়ি কি পেয়েছো তুমি, নির্দিষ্ট অশেষ/ এতোদিনে, প্রীতিভাজুনেষু?”
শোভাবাজার, কলকাতা।
“যাবো, কিন্তু, এখনি যাবো না/ তোমাদেরও সঙ্গে নিয়ে যাবো/ একাকী যাবো না অসময়ে।”
টালাপার্ক, কলকাতা।
“ঈশ্বর আছেন একা”
কুমোরটুলি, কলকাতা।
ঋণ- শক্তি চট্টোপাধ্যায়